266437

‘ছেলের শরীরের একটা টুকরা দেন, ওইডা নিয়াই বাচুম’

চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোহান। বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) মর্গের সামনে কেঁদে কেঁদে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন রোহানের মা-বাবা। মর্গের সামনে এখনও রয়েছেন তারা। ভাঙা হৃদয় নিয়ে অনবরত চোখ দিয়ে ঝরছে অশ্রু।শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢামেকের মর্গের সামনে সকাল থেকেই দেখা গেছে ছেলে হারানোর শোকে মুহ্যমান এই বাবা-মাকে।

রোহানের মা তার একমাত্র ছেলের মরদেহ না পেলেও ফিরে পেতে চান শরীরের এক টুকরা অংশ। এখনও তার হাতে রয়েছে রোহানের ছবি।কিছুক্ষণ পর পর অজ্ঞান হয়ে পড়া এই মা কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, আমার ছেলেডারে আইনা দাও। আমি জানি অয় নাই। অর লাশ লাগবো না। শরীরের একটা টুকরা দেন। আমি ওইডা নিয়াই বাচুম।অপেক্ষারত রোহানের বাবা-মাএদিকে রোহানকে শনাক্ত করার জন্য ঢামেক মর্গের সামনে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করতে আসা সিআইডি টিম রোহানের বাবা-মার ডিএনএ সংগ্রহ করেছে।

এ বিষয়ে রোহানের বাবা বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সারারাত ছিলাম। খুঁইজা পাই নাই। সারারাত ওর মা ঘুমায় নাই। সকালে আসার পর জেলা প্রশাসনের তথ্যকেন্দ্র থেকে সিআইডি টিম আসার জন্য অপেক্ষা করতে বলছিলো। তারা আসার পর আমাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। এখন অপেক্ষা করতে বলছে। দেখি কি হয়।এদিকে ঢামেকের মর্গের সামনে রয়েছে মরদেহ শনাক্ত করতে না পারা স্বজনদের ভিড়। তেমনই একজন পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী মো. ইসমাইল (৬৫)।

ইসমাইলের ছোট ভাই মো. মোশারফ হোসেন ইসমাইলের ছোট ভাই মো. মোশারফ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, আমার বড় ভাই ইসমাইল। ঘটনাস্থলে তখন তিনি আমার মেজ ভাইয়ের দোকানে চা খেতে গিয়েছিলো। চা খেয়ে আসছিলো ওই রাস্তা দিয়ে। তখনই হয়তো মারা গেছেন। এখন ডিএনএ টেস্টের জন্য আমার ভাতিজা সোহরাবের ডিএনএ দিয়েছি। বাকিটা শুধু অপেক্ষা।

ad

পাঠকের মতামত