265766

স্যরি বলুন নইলে কমিটির কাজ আর এগোবে না

নিউজ ডেস্ক।। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকেই পরিবহন নেতা শাজাহান খানের তোপের মুখে পড়লেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসা ইলিয়াস কাঞ্চন। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এ কমিটির প্রধান। আর নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন এ কমিটির সদস্য। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা আনা ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ দিতে শাজাহান খানের নেতৃত্বে কমিটি করা হয়। কমিটির ১৫ সদস্যের মধ্যে ৬ জনই পরিবহন খাতের প্রভাবশালী নেতা। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, শৃঙ্খলা কমিটির প্রথম বৈঠক বিআরটিএ ভবনে গতকাল বুধবার বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয়।

তবে বৈঠকের মূল কার্যক্রম শুরু হয় আরও ঘণ্টাখানেক পর বিকাল ৪টা ৩ মিনিটে। শুরুর ১ ঘণ্টা কেটে যায় শাজাহান খানকে কমিটির সভাপতি করা নিয়ে বিতর্কে। ওই কমিটি করার পর ইলিয়াস কাঞ্চন গণমাধ্যমে বলেছিলেন, বিতর্কিত ব্যক্তিকে সভাপতি করা হয়েছে। গতকাল বৈঠকের শুরুতেই শাজাহান খানের তোপের মুখে পড়েন তিনি। সাবেক নৌমন্ত্রী ইলিয়াস কাঞ্চনকে বলেন, সড়কের বিষয়টি পুঁজি করে ফায়দা লুটতে চান? জবাবে পরিবহন ধর্মঘটের সময় শিক্ষার্থীদের মুখে শ্রমিকদের পোড়া মবিল মেখে দেওয়া, কথায় কথায় ধর্মঘট ডাকা, অন্যায় করলেও চালকদের শাস্তির বিরোধিতা করাসহ বিভিন্ন কারণে সংসদে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও শাজাহান খানসহ পরিবহন নেতাদের অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

শাজাহান খান তখন বলেন, সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব সেখানেই দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্য হয়ে সভাপতির ব্যাপারে জনসমক্ষে দ্বিমত প্রকাশ না করে কমিটি গঠনের দিনই প্রতিবাদ করতে পারতেন। আপনাকে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং স্যরি বলতে হবে। নতুবা কমিটির কার্যক্রম আর সামনে এগোবে না। বৈঠকে ইলিয়াস কাঞ্চনকে স্টেশন-টার্মিনালে অবাঞ্ছিত ঘোষণার কথাও আসে। শাজাহান খানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে বক্তব্য দেন পরিবহন নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ও ওসমান আলী। তারা বলতে থাকেন, অসংলগ্ন কথা বলার জন্য ইলিয়াস কাঞ্চনকে মাফ চাইতে হবে।

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত কমিটির সদস্য কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রসঙ্গের ইতি টানার চেষ্টা করলেও কাজে আসেনি। বাদানুবাদের এক পর্যায়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে মোবাইল ফোনে কল দেন শাজাহান খান। তিনি ফোন রিসিভ না করায় সাবেক নৌমন্ত্রী তার গানম্যানের মাধ্যমেও ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। সেতুমন্ত্রীই এ কমিটি গঠন করেছিলেন। এভাবে এক ঘণ্টা পার হয়ে গেলে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ঠিক আছে, আমি স্যরি বললেই যদি সমাধান হয়, তা হলে বললাম।

এর পর মূল প্রসঙ্গ শুরু করেন বৈঠকের সভাপতি শাজাহান খান। পরে অবশ্য ‘প্রিয় ইলিয়াস কাঞ্চন’ সম্বোধন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন শ্রমিক নেতা শাজাহান খান নিজেই। এর পর বৈঠকে মহাসড়কের বর্তমান চিত্র নিয়ে প্রেজেন্টেশন দেন ডিআইজি (হাইওয়ে) আতিকুল ইসলাম। পরে সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় কার্যপত্র নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আগামী সোমবার ফের বৈঠক হওয়ার কথা। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত