265000

মালয়েশিয়ায় নারীর ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক বাংলাদেশি!

ডেস্ক রিপোর্ট।। মালয়েশিয়ায় ক্যাসিনোর ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে বাংলাদেশিরা। মাস শেষে বেতন পেয়ে অনেকেই অনলাইন জুয়ার আসরে যেয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। আবার অনেক বাংলাদেশী আছেন জুয়ার দোকানে কাজ করে লাখপতি বনে যাচ্ছে। আবার গ্রেফতার হয়ে জেল খাটছে দীর্ঘদিন। আবার কেউ কেউ ডিস্কোতে কাজ করে বদলিয়েছেন ভাগ্য। আবার অনেকেই দিস্কোতে কাজ করে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনামের নারীদের ফাঁদে পা দিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেও আখের গোছাতে পারেনি। বরং দেশে যাও আরো অর্থ থাকে না তাদের কাছে। কঠিন বিষয় মুগ্ধ হয়ে দেশ ও স্বজনদের ভুলে মত্ত হয়ে আছেন ভিনদেশী নারী ও জুয়ার নেশায়।

মালয়েশিয়ায় ক্যাসিনোর গেইম শপের এক পাশে বসে চোখ মুছছিলেন বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিক সায়েদ মিয়া। দুই মাস কষ্ট করে দেশে পাঠানোর জন্য জমিয়েছিলেন সাত হাজার রিঙ্গিত। মাত্র দুই ঘণ্টার জুয়ায় সব শেষ। ঘটনাটি গত বুধবার রাতের। সায়েদের ভাষায়, ‘বহুবার প্রতিজ্ঞা করেছি, আর ক্যাসিনো গেইম নয়। কিন্তু হাতে অর্থ এলেই চলে আসি। সব খুইয়ে ঘরে ফিরতে হয়। মাঝে মধ্যে জিতলেও তা নগণ্য। তিন বছর ধরে লোকসান ওঠানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সফল হইনি। বরং লোকসানের অঙ্কই কেবল বেড়েছে। গত তিন বছরে ৮০ হাজার রিঙ্গিত ক্যাসিনোর গেইমসে খুইয়েছি।’ সায়েদ একাই নন। ক্যাসিনোর গেইম দোকানে প্রতিদিন আসছেন শতাধিক বাংলাদেশি। ক্যাসিনোর ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন হারাচ্ছেন তাদের কষ্টার্জিত অর্থ।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর চার বিলিয়ন ডলারের মুনাফা করে ক্যাসিনোর গেইমস-এর মালিকরা। এর মধ্যে কম করে হলেও ৬শ কোটি টাকা যাচ্ছে বাংলাদেশিদের পকেট থেকে। প্রবাসীদের পাশাপাশি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও নিয়মিত ক্যাসিনোয় এসে অর্থ দিয়ে যাচ্ছেন। বড় শিল্পপতিরাও এখানে এসে টাকা উড়িয়ে দেশে ফেরেন। মালয়েশিয়া গেইম শপ, বিভিন্ন টেবিল ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ টেবিলে প্রতিবার বেটে ১শ রিঙ্গিতের নিচে খেলার সুযোগ নেই। তবে লাখ রিঙ্গিত বেটেরও সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া শ্লট মেশিনে ৫-১০ সেন্ট দিয়েও খেলার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫০ রিঙ্গিত মেশিনে জমা দিয়ে খেলা শুরু করতে হবে।

গেমসে আগতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে মালয়েশিয়ায় ক্যাসিনো গেইম। প্রতিদিন হাজার হাজার জুয়াড়ি আসেন। এর মধ্যে চীনা, ভারতীয়, মালয়েশীয়, ইন্দোনেশীয় ও বাংলাদেশিই বেশি। এদের কারণেই মূলত টিকে আছে ক্যাসিনোর গেইমশিপগুলো। মালয়েশিয়ায় লক্ষাধিক বাংলাদেশির মধ্যে নিয়মিত ক্যাসিনোয় যাতায়াত করেন ৬০ থেকে ৭০ হাজারের মতো। তাদের সবার উপস্থিতিতেই জমে ওঠে জুয়ার আড্ডা।

মালয়েশিয়া প্রবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, ক্যাসিনো এখন বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম সামাজিক সমস্যা। কোনো কোনো কোম্পানি শ্রমিকদের মালয়েশিয়া গেইম শপে যাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। কারণ ক্যাসিনোগামী শ্রমিকদের কাজে মনোযোগ থাকে না। তারা ঘন ঘন কাজে অনুপস্থিত থাকেন।

সায়েদ মিয়া বলেন, মালয়েশিয়া সহস্রাধিক বাংলাদেশি রয়েছেন, যারা বছরের পর বছর মালয়েশিয়া থাকলেও বাড়ির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। সারা বছর কাজ করলেও টাকার অভাবে দেশে যেতে পারেন না তারা। কাজ করেন মূলত ক্যাসিনোর জন্য।

জানা গেছে, প্রতিদিন কয়েক হাজার বাংলাদেশি বড়লোক হওয়ার আশায় ক্যাসিনো গেইম খেলার জন্য আসেন। বেশির ভাগই অর্থ হারিয়ে ঘরে ফেরেন। মাসের ১০ তারিখের পর সংখ্যা আরও বাড়ে। বেতন পেয়ে পুরো মাসের অর্থই গেইম শপে দিয়ে আসেন। গেইম শপের প্রতি আসক্তির কারণে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন হাজারো প্রবাসী।

গেইম শপে কথা হয় নরসিংদীর সুহেল, কুমিল্লার সুহেল ও মানিকগঞ্জের শাহীনের সঙ্গে। তারা বলেন, বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিকদের ৫০ শতাংশ নিয়মিত গেইম শপে আসেন। জুয়ায় হেরে বেশির ভাগই মন খারাপ করে ঘরে ফেরে। কেবল নির্মাণ শ্রমিক নন, বাংলাদেশি নামিদামি ব্যবসায়ীও মালয়েশিয়া ক্যাসিনোর গেইম খেলার জন্য আসেন। হাজার হাজার রিঙ্গিত দিয়ে যান। এছাড়া মালয়েশিয়া বাংলাদেশি পেশাজীবী যারা ভালো রোজগার করেন, তারাও নিয়মিত ক্যাসিনোয় ঢুঁ মারেন। ছুটির দিনে নির্মাণ শ্রমিকরাও চলে আসেন জোয়া খেলার টানে।

ক্যাসিনোর মালয়েশিয়ায় গেইম শপে পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত আসেন কিশোরগঞ্জে সায়েদ। তিনি বলেন, আগে সপ্তাহে একদিন আসতাম। এখন নিয়মিত আসি। পকেটে ১শ রিঙ্গিত থাকলেই এখানে চলে আসি। বেশির ভাগ দিন হেরে ঘরে ফিরি। যেদিন ভাগ্য ভালো হয়, ৪/৫শ রিঙ্গিত পকেটে ওঠে। কিন্তু এমনটা মাসে দু-একবারের বেশি ঘটে না।

শুধু ক্যাসিনো আর নারীর ফাঁদে পড়ে নয়। জুয়ার আসরেও মত্ত আছে অনেকেই। সারাদিন কাজ শেষে রুমে বসে নিজ দেশ ও বিদেশিদের সঙ্গে তাস খেলায় নিঃস্ব হচ্ছে অনেকেই। টাকা না থাকলেও বেতন পাওয়ার আগে ব্যাংক কার্ড জমা রেখে সুদে টাকা নিয়ে জোয়ার আসরে বসছে। মাস শেষে সুদ ও আসল সহ টাকা দেওয়ার পর বাড়িতে টাকা পাঠানোর কথা অনেকেই ভুলে যান।

ad

পাঠকের মতামত