264108

আমিরাত প্রবাসীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ

নিউজ ডেস্ক।। তিনদিনের সরকারি সফরে রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জার্মানির মিউনিখ থেকে একটি ফ্লাইটে স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফর নিয়ে আরব আমিরাত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা। প্রধানমন্ত্রী এই সফরের বিভিন্ন দিক উঠে আসছে তাদের আড্ডা-গল্পে। তাদের আশা, শেখ হাসিনার এবারের আমিরাত সফর বাংলাদেশি শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে এবং দেশটির শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণে ভূমিকা রাখবে।

ইতিমধ্যে গণমাধ্যমকে দেয়া বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে প্রাধান্য পাবে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শ্রমবাজার। সে হিসেবে এই সফরে বন্ধ শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণে যথাযথ আলোচনার প্রত্যাশাও তাই অনেকটা বেশি। এছাড়া দু’দেশের আমদানি-রফতানি বাড়াতে নৌ পথে শিপ লাইন করার বিষয়েও আলোচনার প্রত্যাশা প্রবাসীদের।

প্রসঙ্গত, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বর্তমানে সাত লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির বসবাস। ২০১২ সালে দ্বিতীয় রেমিটেন্স প্রেরণকারী এই দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে নানা জটিলতায় বিপাকে দিনাতিপাত করছেন দেশটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আমিরাতে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকালে আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (এডিএনইসি) ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স এক্সিবিশনের (আইডিইএক্স-২০১৯) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এছাড়া সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থপতি, প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি ও আবুধাবির প্রয়াত শাসক শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের স্ত্রী শেখা ফাতিমা বিনতে মুবারক আল কেতবির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় আবুধাবি দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন শেখ হাসিনা।

রাস আল খাইমা বাংলাদেশ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি পেয়ার মোহাম্মদ বলেন, ‘নেত্রী আসছেন জেনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত, আবেগাপ্লুত। বিগত সাত বছর ধরে যেহেতু আমিরাতের শ্রমিক ভিসা বন্ধ রয়েছে প্রথমেই এদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরে সঙ্গে আলোচনা করে ভিসা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা যায় কিনা সেটি বিবেচনা করতে হবে। তা না হলে অন্তত আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসীদের অভ্যন্তরীন ভিসা পরিবর্বতনের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার জোর প্রস্তাব করতে হবে। এছাড়াও আমিরাতে দুটো বাংলাদেশ স্কুল রয়েছে। আবুধাবি বাংলাদেশ স্কুল সরকারি অর্থায়নে চললেও রাস আল খাইমার স্কুলটি কমিউনিটি স্কুল হওয়ায় আমিরাত সরকারের চাওয়া পাওয়া অনুযায়ী সবকিছু যথাযথ করা সম্ভব হচ্ছে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুদৃষ্টি দিলে স্কুলটি বন্ধ হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যাবে।’

আবুধাবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ইফতেখার হোসান বাবুল বলেন, ‘সাধারণত একটি দেশের সরকারপ্রধানের সফর ঘিরে সেদেশে বসবাসরত প্রবাসীদের সীমাহীন আনন্দবোধ কাজ করে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের অন্যতম চিন্তাবিদ, আশা করছি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে দু’দেশের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে, যে সম্পর্কের সেতু তৈরি করে দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমাদের প্রত্যাশা এই সফরকে কেন্দ্র করে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বেশি গতিশীল হবে।’ উল্লেখ্য, ২০ ফেব্রুয়ারি বুধবার প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। ইতিপূর্বে ২০১৪ সালের অক্টোবরে সর্বশেষ সরকারি সফরে আমিরাত আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ad

পাঠকের মতামত