257611

জাহালমকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে ঘরে তুললেন মা

সব জল্পনা কল্পনা অবসান ঘটিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে সোনালী ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কারাবন্দি নির্দোষ জাহালম মুক্তি পেয়েছেন।সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ৫০ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে তিনি মুক্তি পান। মুক্তির পর জাহালম তার ভাই শাহানুর মিয়াকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।কারাগার থেকে ভাই শাহানূরের সঙ্গে ভোররাত ৪টায় গ্রামের বাড়িতে আসেন জাহালম। রাতের অন্ধকারে ঘন কুয়াশায় মোবাইলের আলো দূর থেকে দেখে ছুটে এলেন মা মনোয়ারা।জাহালমকে দেখে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে জড়িয়ে ধরলেন মনোয়ারা। জাহালমের কপালে চুমু দিয়ে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলেন- ‘কার মাথায় বাড়ি দিছিলাম যে আমার এত বড় সর্বনাশ করেছিল।’

আহাজারি করেন জাহালমের ভাইবোন ও স্বজনরাও। শেষে জাহালমকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে ঘরে তোলা হয়। এর আগে রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পাঁচটা থেকে জাহালমের বড়ভাই, স্ত্রী, কন্যা ও বোন কাশিমপুর কারাগারের বাইরে ভাইয়ের মুক্তির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এর আগে সকালে জাহালমকে সব মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।জাহালমের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় বলেন, ‘হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জাহালমকে একদিনের মধ্যেই মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা ৩৩টি মামলার মধ্যে ২৬টিতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০১৬ সালে পুলিশ ভুল করে সালেকের পরিবর্তে টাঙ্গাইলের জাহালমকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে জাহালম ৩ বছর ধরে সাজা খেটেছেন।এ নিয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক ‘স্যার আমি সালেক না, জাহালম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত আদালতের নজরের আনেন।

পরে বিষয়টি আমলে নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত এই ভুল তদন্তের সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। না হলে আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে বলে আদেশে উল্লেখ করেন।

ad

পাঠকের মতামত