255700

‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না বলেই এতটা উদ্ধত তারা’

মুগদা হাসপাতালের বাইরে আরটিভির সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে৷ পরিচালক নিজের ভুল স্বীকার করে বলেছেন, তিনি বুঝতে পারেননি ঘটনা এতদূর যাবে৷মঙ্গলবার রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অনিয়মের খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন আরটিভির সাংবাদিক সোহেল রানা ও ক্যামেরাপার্সন নাজমুল হোসেন সায়মন৷ সেখানে তাঁরা হামলার শিকার হন৷

এ ঘটনায় সেদিনই সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নির্দেশে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এই কমিটি গঠন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন৷ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে কমিটিতে আরো আছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী খান ও মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব মো. শাহাদত হোসেন৷

হামলার বিষয়ে আরটিভির প্রতিবেদক সোহেল রানার সঙ্গে কথা বলেছে ডয়চে ভেলে৷ তিনি অভিযোগ করেন যে, হাসপাতালে সব ঠিকমতো চলছে কিনা তা নিয়ে কাজ করতে চাইলে শুরু থেকেই অসহযোগিতা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক’দিন আগেই হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন৷ এরপরই আমাকে আমার অফিস এসব বিষয়ে খবর সংগ্রহ করতে বলে,” ডয়চে ভেলেকে টেলিফোনে জানান সোহেল৷ ‘‘আমি সেই বিষয়ে খবর সংগ্রহ করতে এই হাসপাতালটিতে গেলে জানতে পারি যে, পরিচালক মহোদয়ের অনুমতি নিতে হবে৷’

সোহেল জানান, এরপর তিনি পরিচালকের রুমে গিয়ে তাঁর অনুমতি চাইলে তিনি সহযোগিতা তো করেনইনি বরং তিনি নানান ‘শর্ত’ দিতে থাকেন৷ অনুমতি না পেয়ে হাসপাতালের বাইরে এসে রোগীদের সঙ্গে কথা বলার সময় সোহেল রানা ও নাজমুল হোসেন সায়মনের ওপর হামলা করা হয়৷হামলাকারীদের মধ্যে তিন-চারজন পরিচালকের রুমেই ছিলেন বলে জানান সোহেল৷‘তারা পরিচালকের রুম থেকে আমাকে হাসপাতালের বাইরে এগিয়ে দিয়ে যান৷ পরে হাসপাতালের বাইরে রোগীরা নানা বিষয়ে অভিযোগ করতে শুরু করলে তারা তা কোনোভাবে শুনতে পান৷ এরপর এসে হামলা চালান,’ বলেন আরটিভির প্রতিবেদক৷

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালটির পরিচালক আমিন আহমেদ খান ডয়চে ভেলের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমিও তো মানুষ৷ আমারও তো ভুল হয়৷”অসহযোগিতার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন যে, বিষয়টি এতদূর গড়াবে তা তিনি বুঝতে পারেননি৷‘ঘটনাটি দুঃখজনক৷ লজ্জাজনক,’ বলেন আমিন৷ ‘যে হামলা করেছে সে আউটসোর্সড স্টাফ৷ তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে৷’এই জানুয়ারিতেই তিনি উপপরিচালক থেকে পরিচালক হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার প্রথম যে ভুলটা হয়েছে, এটা আমার আত্মোপলব্ধি বলতে পারেন, তা হলো, আমি যদি শুরুতেই তাঁকে স্বাদরে গ্রহণ করতাম এবং নিজে নিয়ে যেতাম, তাহলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না৷ মানুষ চেয়ার পাওয়ার পরে কিছু তো ভুল করে৷

ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল যেন না হয়, সে শিক্ষাই তিনি পেয়েছেন বলে জানান৷ ‘‘আমার ধারণাই ছিল না যে, বিষয়টা জার্মানি পর্যন্ত চলে যাবে৷ আজকে আপনি শেখালেন যে, একটা বিষয় কত বিশ্বব্যাপী চলে যায়,” টেলিফোনে বলেন হাসপাতালটির পরিচালক৷সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়েআরটিভির উপবার্তা প্রধান ও সংগঠক মামুনুর রহমান খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়৷‘দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকরা কখনো সরকারি, বেসরকারি, এনজিও সব জায়গায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিগৃহীত হয়েছে, মার খেয়েছে, কোথাও হত্যার হুমকি পেয়েছে, নিহত হয়েছে,’ বলেন মামুন৷

‘কিন্তু কোনো ঘটনারই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমরা দেখিনি, যার ফলে গতকালও প্রকাশ্যে হামলার সাহস তারা পেয়েছেন,’ যোগ করেন তিনি৷ মামুন আরো বলেন, ‘অবস্থা কোথায় গেছে চিন্তা করেন, যেখানে সরকারপ্রধান বলছেন, হাসপাতালগুলোতে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য৷ তারপরই গণমাধ্যম গেছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন করার জন্য৷ সেখানে তাদের ওপর হামলা হচ্ছে৷’ মামুন মনে করেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছে৷ ‘‘ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের কোনো ওয়েজ বোর্ড নেই, কোনো নীতিমালা নেই৷ কোনো সংগঠনও নেই,” বলেন তিনি৷যেহেতু এই মাধ্যমের সাংবাদিকদের কাজের পদ্ধতি ভিন্ন, তাই তাদের কথা বলার জন্য, নিরাপত্তার জন্য ভিন্ন প্লাটফর্ম দরকার বলে মনে করেন এই সাংবাদিক। সূত্র: ডয়চে ভেলে

ad

পাঠকের মতামত