254993

শিশু হৃদয়কে হত্যা করা হয় ১৫০০ টাকার দ্বন্দ্বে!

নিউজ ডেস্ক।। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে হৃদয় (৭) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটি গত চার দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের আলীনগর চান সাদেক মসজিদের পাশে শিশুটির লাশ পাওয়া যায়। স্থানীয় ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ ইয়াসিন মল্লিক (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত শিশুর বাবার সঙ্গে মাত্র এক হাজার ৫০০ লেনদেনের দ্বন্দ্বের জেরে শিশুটিকে অপহরণের পর হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ধারণা।

হৃদয়ের বাবা রাজমিস্ত্রী রমজান আলী জানান, স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে লালবাগ শহীদনগর এক নম্বর গলির একটি বাসায় ভাড়া থাকেন তিনি। হৃদয় স্থানীয় একটি স্কুলে প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ফুটবল খেলার কথা বলে বাইরে যায় হৃদয়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরদিন লালবাগ থানায় হৃদয়ের নিখোঁজের বিষয়টি জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন রমজান আলী। হৃদয়ের খোঁজে এলাকায় মাইকিংও করেন তারা। তার কাছে এক হাজার ৫০০ লেনদেনের দ্বন্দ্বে ইয়াসিন নৃসংসভাবে হৃদয়কে খুন করেছে বলে অভিযোগ রমজান আলীর।

কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আল মামুন জানান, মঙ্গলবার সকালে ইলিয়াসের বাড়ির গেটের পাশে পরিত্যাক্ত একটি বস্তা থেকে দূর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ওই বস্তা থেকে হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বস্তাবন্দি মরদেহের উপরে কেরোসিন ঢেলে রাখা ছিল যাতে দুর্গন্ধ বের না হয়। পরে হৃদয়ের মা তার ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেন। নিহত শিশুর গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যার পর বস্তায় ভরে লাশ গুম করা হয়। যেহেতু এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে লালবাগ থানায়, সেহেতু কামরাঙ্গির চর থানায় লাশ উদ্ধার হলেও লালবাগ থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।

লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুভাষ কুমার পাল জানান, হৃদয়কে গুম ও হত্যার অভিযোগে ইয়াসিন নামে একজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াসিন জানিয়েছেন, তার বাবার নাম মৃত আলী হোসেন। তিনি কামরাঙ্গির চরের আলী নগরের বুড়ির বাড়ির ভাড়াটিয়া। হৃদয়ের বাবার সঙ্গে টাকা-পয়সা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে শনিবার বিকেলে হৃদয়কে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করে বাসায় নিয়ে যান তিনি। সন্ধ্যার দিকে নাক-মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হৃদয়কে হত্যা করেন ইয়াসিন। এরপর হৃদয়ের মুখে স্কসটেপ লাগিয়ে বস্তায় লাশ ভরে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখের। পরে হৃদয়ের খোঁজে তার বাবার সঙ্গেও বিভিন্ন স্থানে দৌঁড়-ঝাপ করেন ইয়াসিন। এদিকে লাশে পঁচন ধরলে গতকাল সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে বাসার পাশে বারেক ও ইলিয়াসের বাড়ির সামনের রাস্তায় লাশ ফেলে পালিয়ে যান। ইয়াসিনকে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও ওসি সুভাষ কুমার জানান।

ad

পাঠকের মতামত