251924

যে কমিটি বিলুপ্ত করে পুনর্গঠনের যাত্রা শুরু করলো বিএনপি

নির্বাচনে চরম ভরাডুবি ও সাংগঠনিক ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে দলকে চাঙা করতে সার্বিক বিষয়ে ফের পুনর্গঠনে মনোযোগ দিচ্ছে বিএনপি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমে নজর দেওয়া হয়েছে দলটির ‘বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটি’ কার্যক্রমের ওপর। যে কমিটি ইতোমধ্যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতিবাচক তেমন কোনো কার্যকর সহযোগিতা পায়নি বিএনপি। তাই এ কমিটি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চার দিন আগে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।১৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার কমিটির সদস্যদের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিএনপির বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহান্তে নতুন কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হবে। নতুন কমিটি গঠনের আগে যদি পুরানো কমিটির কোনো সদস্য কমিটিসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন মনে করেন, তা হলে তাকে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করছি।’

সদ্য বিলুপ্ত হওয়া বিএনপির বৈদেশিক কমিটির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, ‘কমিটির সদস্য সংখ্যা অনেক। কাজ করেন গুটি কয়েকজন। এ জন্য যাদের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ আছে, এমন নেতা ও দল সমর্থক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশ, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও চীনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এবারের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটি গঠন করা হবে। এসব দেশের সঙ্গে যেসব নেতার যোগাযোগ রয়েছে, তাদের কমিটিতে রাখা হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং আগে যারা এ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের মতামত নিচ্ছেন। সেক্ষেত্রে হয়তো স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য কিংবা বিএনপি সমর্থক সাবেক এক কূটনীতিককে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হবে। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী এ কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।

গত ১৯ ডিসেম্বর ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির আহ্বায়ক ইনাম আহমেদ চৌধুরীর আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পরই কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত হয়। নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ রহমান আলোচনায় আছেন। তার সম্মতি থাকলে আগামী কমিটিতে তাকেই আহ্বায়ক হিসেবে চান বেশিরভাগ সদস্য।বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘গত ১৭ জানুয়ারি কমিটি পুনর্গঠনের জন্য ভেঙে দেওয়া হয়। সময়ের সঙ্গে কমিটির পুনর্বিন্যাস জরুরি হয়ে পড়েছিল। তাই পুনর্গঠন হবে।’

বৈদেশিক সম্পর্কিত কমিটির দুই সদস্য জানান, গত কয়েক বছরে ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্যরা বয়স, সময় ও সক্ষমতার কারণে সময় দিতে পারছিলেন না। শমসের মবিন চৌধুরী দল থেকে পদত্যাগের পর কমিটির হাল ধরেন সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমান। ২০১৫ সালে তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর কমিটিতে কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাবেক পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ রহমানকে চেয়ারম্যান করতে চাইলে ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে এ পদে নিয়োগের প্রস্তাব করেন রিয়াজ রহমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত কয়েকবছর ধরে অনেকটাই জোড়াতালি দিয়ে চলছিল বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি। বিশেষ করে কমিটির সিনিয়র সদস্যদের অনেকেই অসুস্থতার কারণে ধারাবাহিকভাবে মিটিংয়ে আসতে পারেননি। অনেকে অংশ নিলেও বাড়তি চাপ নিতে অপারগ ছিলেন। এ ছাড়া এমন সদস্যও ছিলেন যাদের কেউ কেউ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কৌশল সম্পর্কে অজানা ছিলেন। এসব কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল আনতে ব্যর্থ হয় ফরেন কমিটি।

বিএনপির রাজনীতি কোন পথে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি সঠিক পথে নেই। অতীতে অনেক ভুলত্রুটি হয়েছে। এগুলো শুধরাতে হবে। এটা থেকে উত্তরণে সবাইকে জিয়ার আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তার চেতনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বিএনপিতে অনেক ভালো নেতা রয়েছেন। দল থেকেই সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। তাদের খুঁজে বের করে আনতে হবে।’

বিএনপির ঘুরে দাড়ানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, ‘দেশে তো এখন রাজনীতি নেই। বিশেষ করে বিএনপির কোনো রাজনীতি দৃশ্যমান নয়। বাংলাদেশের সুরাজনীতির কোনো ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সৎ রাজনীতি নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে, মানুষের কল্যাণের রাজনীতি এমনকি দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নের রাজনীতি নিয়েও আমার মনে সন্দেহ চলে এসেছে। সুশাসন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এগুলোর অভাব স্পষ্ট। বাংলাদেশে যারা সত্যিকারার্থে রাজনীতি করতে চান, তারাই এখন সন্দেহ অবিশ্বাসে ভুগছেন। রাজনৈতিক সচেতনতাবোধ বা সৌজন্যতাবোধ নেই। প্রতিহিংসা আর জিঘাংসার রাজনীতি বিদ্যমান। নীতির প্রশ্নে আদর্শের প্রশ্নে রাজনীতি এখন দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে।’

ad

পাঠকের মতামত