সুবর্ণচরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ: আওয়ামী লীগের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত রুহুলকে
নিউজ ডেস্ক।। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন রোববার ৩০ ডিসেম্বর রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে গৃহবধূকে গণধর্ষণ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত রুহুল আমিনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও চর জুবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার।
বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় দলের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন। এ সংগঠনে কোন অপরাধীর ঠাঁই নেই। রুহুল আমিনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুব শিগগিরই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এসময় ঘৃণ্য এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এর আগে বুধবার রাত পৌনে তিনটার দিকে রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ বলেন, রুহুল আমিনকে বুধবার রাতে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ওয়াপদা এলাকার একটি খামার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া এজাহারভুক্ত অন্য আসামি বেচুকে জেলার সেনবাগ উপজেলার খাঁজুরিয়া গ্রামের একটি ইটভাটা থেকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত রোববার একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর রাত ১২টার দিকে ঘরে ঢুকে ওই গৃহবধূকে দল বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। এসময় তার স্বামীকে মারধর ও চার সন্তানকে বেঁধে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। পরে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী নয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। ধর্ষিতার স্বামী সিএনজি অটোরিকশাচালক বলেন, গত রোববার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা তার বাড়িতে এসে পুলিশ পরিচয়ে দরজা খুলতে বলে। তিনি দরজা খুললে তারা ঘরে ঢুকে তার হাত-পা-মুখ বেঁধে তার স্ত্রীকে ঘরের বাইরে নিয়ে ধর্ষণ করে। ভোরে তার বাড়ির পাশ থেকে স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। তার দাবি, ধর্ষকরা সবাই আওয়ামী লীগের কর্মী। তার স্ত্রী ধানের শীষে ভোট দিয়েছিল বলে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা তাকে ধর্ষণ করেছে। উৎস: বিডি-জার্নাল।




