246345

‘সে তো বিদেশে বসে আছে’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয় বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ১২ মিনিটে। তার পরনে ছিল গোলাপি রঙের শাড়ি। খালেদা জিয়া আসার তিন মিনিট পর ১২ টা ১৫ মিনিট বিচারক এজলাসে আসেন। এরপর শুরু হয় নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম। নাইকো মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি শেষে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের ভেতরে মওদুদ ও অন্যনা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন খালেদা জিয়া। কথা বলার একপর্যায়ে খালেদা জিয়া মওদুদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান।

জানা গেছে, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ খালেদা জিয়ার সঙ্গে বর্তমান রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে থাকেন। খালেদা জিয়া বারবার মওদুদকে বলেন, ‘যেকোনো বিষয় আপনারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। সে তো বিদেশে বসে আছে (তারেক রহমান)।’ মওদুদ বারবার একই বিষয় প্রশ্ন করতে থাকেন খালেদাকে। তখন খালেদা জিয়া তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান।এর আগে শুনানি চলাকালে এজলাস কক্ষে পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতি বেশি দেখে ক্ষুব্ধ হন খালেদা জিয়া। আদালতকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আদালতে এত পুলিশ কেন?’। খালেদা জিয়া বলেন, ‘লইয়ারদের তো বসতে দিতে হবে।’ তখন দুদকের পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আদালত কক্ষে চেয়ার আছে’ তখন খালেদা জিয়া কাজলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কোথায় আছে চেয়ার।’

ডায়াসে দাঁড়ানো মামলার আসামি মওদুদ আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এভাবে কী ফেয়ার ট্রায়াল হতে পারে?’ তখন খালেদা জিয়া আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এ রকম জায়গায় কোনো মামলা চলতে পারে না। আমি আর আসব না।’এরপর ক্ষুব্ধকণ্ঠে খালেদা জিয়া আবারও বলেন, ‘আমি আর এই কোর্টে আসতে পারব না। আমাদের লোকদের আসতে দেওয়া হয় না। ’ কাজল তখন খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, এটা উন্মুক্ত আদালত। এখানে সবাই আসতে পারেন। কাউকে বাধা দেওয়া হয় না। খালেদা জিয়া তখন ফের বলেন, ‘সাজা দেওয়ার জন্যই আনছেন। সাজা দিয়েছেন। সাজা দেবেন। এখানে আমি আর আসব না।’

খালেদা জিয়ার কথা শেষে মওদুদ তখন আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ইজ ইট এ্যা পাবলিক ট্রায়াল?’ আইনজীবীদের নাম রেজিস্ট্রি করে এখানে আসতে হয়।’ এরপর মওদুদ ফের বলেন, এটা কী উন্মুক্ত আদালত?মওদুদ তখন বিচারককে জানান, আগের বিচারককে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তখন তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। তখন বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান মওদুদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমিও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’ অবশ্য শুনানি চলার সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আদালত কক্ষে আসেন। তিনিও খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানির পরবর্তী তারিখ ১৩ জানুয়ারি ধার্য করে এজলাস ছেড়ে যান বিচারক।
সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

ad

পাঠকের মতামত