নিজ দলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে এমপির অনুসারীদের হামলা
নির্বাচিত হয়েই নিজ দলের নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ উঠেছে সিলেট-৩ আসনে নবনির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে ধরেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম কিবরিয়া ময়নুল। এ সময় বাসা-বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার বর্ণনা দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।কিবরিয়া ময়নুল অভিযোগ করেন, নৌকার বিজয়ে যখন পুরো দেশ উত্তাল, তখন মাহমদু উস সামাদ চৌধুরী কয়েস তার বাহিনী দিয়ে বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল, যুক্তরাজ্য উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম সাব্বির, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম আহমদ শাহ, জোন শাহ ও মিজানুর রহমান বাবেলের বাড়িতেও হামলা চালান।
মূলত আব্দুল বাছিত টুটুল নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তার পক্ষে কাজ করায় ওই হামলা হয় বলে জানান ময়নুল। তার দাবি, শেখ হাসিনা প্রার্থী ঘোষণার পর নৌকার পক্ষে সবাই একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। কোনো বিভেদও ছিল না।তবে নির্বাচিত হওয়ার পর দিনই এমপি কয়েস তার বাহিনী দিয়ে তাদের বাসা বাড়িতে হামালা চালান। পুড়িয়ে দেওয়া হয় কয়েকটি ঘরবাড়ি। নারী-শিশুরা কান্নায় এখনো সেই স্মৃতি মনে করে কেউ বাড়িতে ফিরতে চান না বলেও জানান তিনি।সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম আহমদ শাহ জানান, সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাদের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, হামলায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজান আহমদ শাহ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে কয়েকটি মোটরসাইকেলে বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী হামলায় অংশ নেয়।
যারা হামলার শিকার হয়েছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারীরা। সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তিনি। তবে মনোনয়ন না পাওয়া এ নেতা পরবর্তীতে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন না।এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজান আহমদ শাহ হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। তবে যখন হামলা হয়, তখন তিনি বাড়িতে না থাকায় কাউকে চিনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি আবুল বাশার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, এটা বিক্ষিপ্ত ঘটনা। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যারা হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন, তারা কারা হামলা করেছে তা বলতে পারেননি।




