আ’লীগ নেতা মধ্যরাতে সংবাদ সম্মেলনে এসে যা বললেন
নিউজ ডেস্ক।। ‘নিশ্চিত পরাজয় জেনে বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচাল করতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করছে।’ শনিবার মধ্যরাতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগের রাতেই জামায়াত-বিএনপির ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের পরিবেশকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করতে সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে এবং বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী বাহিনী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ওপর এ হামলা চালাচ্ছে।’
‘একই সাথে লন্ডনে বসে দুর্নীতি পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমান সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আজগুবি মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছে। সারা দেশে ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোট কেন্দ্র দখলের অপতৎপরতা চালাচ্ছে।’ আওয়ামী লীগের দুই কর্মীকে হত্যার মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে দাবি করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে আজ রাতে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় আওয়ামী লীগের সাইফুল ইসলাম ও চট্টগ্রামের পটিয়ায় যুবলীগ নেতাকে নৃশংসভাবে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচনের নৈরাজ্য সৃষ্টির নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছে।’
নির্বাচনের আগের দিন বিএনপি-জামায়াত ভোট কেন্দ্র দখলে নিয়েছে দাবি করে রহমান বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল সাহেবদের পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় ভোট কেন্দ্র দখল করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে। নোয়াখালী-২ আসন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারকে মারধর করে ভোট কেন্দ্র দখলে নিয়েছে এবং হামলায় ছয়জন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’
‘রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি আমতলী ইউনিয়নের যুবদলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ওপর হামলা চালিয়ে পাঁচজন আহত করেছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ করেছে। একই সাথে বিভিন্ন জায়গায় ভোট কেনার জন্য আইএসআইয়ের পাঠানো হাজার কোটি টাকা দিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করছে।’
রহমান জানান, ‘ইতোমধ্যেই ঠাকুরগাঁয়ে কেন্দ্র দখলের সময় বিনপির ১৪ নেতা-কর্মী আটক হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভোট কেনার সময় নয়জন বিএনপি নেতা-কর্মী আটক হয়েছে। কেন্দ্র দখলের সময় যশোরে দুজন বিএনপি নেতা আটক হয়েছে।’ আওয়ামী লীগের এই নেতা জানান, ‘এক অডিও বার্তায় কর্নেল অলি আহমেদ লাঠিসোঁটা নিয়ে ভোট কেন্দ্র দখলে নির্দেশ দিয়েছেন। জামায়াতের সন্ত্রাসীরা বরগুনার আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভোট কেন্দ্রে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছে। সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা করে পাঁচজনকে আহত করেছে। একইভাবে সারা দেশে তারা সহিংসতা ছড়াচ্ছে।’
বিএনপি নির্বাচন নিয়ে ক্রমাগত মিথ্যাচার করছে দাবি করে রহমান বলেন, ‘নয়াপল্টন আর গুলশানে বসে বিএনপি নেতারা একের পর এক নির্লজ্জ মিথ্যাচার ও কল্পকাহিনির মাধ্যমে জাতিকে বোকা বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা সারা দেশের জনগণকে অত্যন্ত সতর্ক ও ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
‘আমরা বলতে চাই দেশের এক বিশেষ মুহূর্তে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।’ ঐক্যফ্রন্টকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমরা বিএনপি-জামায়াত ও ফ্রন্ট অশুভ জোট নেতাদের হুঁশিয়ার উচ্চারণ করে বলতে চাই জনগণের সাংবিধানিক ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না। গণতন্ত্রকামী বাংলাদেশের জনগণকে নিরাপদে-নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিন। সন্ত্রাস নৈরাজ্য সহিংসতা ও গুজব বন্ধ করুন। নতুবা জনগণ আপনাদের ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নির্বাচন বানচালের কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করবে না।’
রহমান জানান, ‘সারা দেশে নৌকা মার্কার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে নৌকার পক্ষে গণমানুষের আকুণ্ঠ সমর্থন দেখে ভীত হয়ে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। সন্ত্রাস সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের নিশ্চিত বিজয় ঠেকানো সম্ভব নয়। আমরা নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আবদুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের প্রাক্কালে আমরা দেশবাসীকে এ ধরনের সন্ত্রাসী এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।’ সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বি এম মোজাম্মেল হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।




