243643

আওয়ামী লীগের গলার কাঁটা হয়ে মাঠে আছে জাপা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়ের দুটি আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৮ দলের ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বরাবরের মতো এবারও সবার নজর প্রধান দুই দলের প্রার্থীদের দিকে। জনমত বলছে এবারও লড়াই হবে নৌকা আর ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে। তবে এখনও আওয়ামী লীগের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি ও বিএনপির শরিক জাপার প্রার্থীরা গলার কাঁটা হয়ে দুটি আসনেই মাঠে রয়েছেন।শরিকদের নিয়ে অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে দুই দলের মাঝে। এমনকি প্রধান দুই দলের ভোট টেনে নেয়ার পাশাপাশি নির্বাচনে প্রধান দুই দলের হিসেবও পাল্টে যেতে পারে শরিক প্রার্থীদের জন্য। পঞ্চগড়-১ আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক সংসদ মজাহারুল হক প্রধান নৌকা আর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। পঞ্চগড়-২ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন নৌকা প্রতীকে এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা ফরহাদ হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। জনমত বলছে বিএনপি নবীন ও আওয়ামী লীগের প্রবীন দুই নেতার মধ্যেই নির্বাচনের লড়াই হবে। তবে বিএনপির গলার কাঁটা হিসেবে এখনো দুটি আসনেই মাঠে আছেন তাদের অন্যতম শরিক জাগপার প্রার্থীরা।

পঞ্চগড়-১ আসনে জাগপার প্রার্থী আল রাশেদ প্রধান ও পঞ্চগড়-২ আসনে জাপার প্রার্থী ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান হুক্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের বাড়া ভাতে ছাই দিয়ে মাঠে রয়েছে তাদের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। পঞ্চগড়-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু সালেক ও পঞ্চগড়-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী লুৎফর রহমান রিপন লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। বৃহস্পতিবার প্রচারণার শেষ দিন পর্যন্ত তারা নিজেদের সমর্থনে ভোট দাবি করেছেন।বিএনপির অন্যতম শরিক জাপার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান মারা যাওয়ার পর দলটির বর্তমান সভাপতি তার মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান সারা দেশের মধ্যে একটি আসন হলেও পঞ্চগড়-২ আসনটি তাদের প্রার্থী দেয়ার দাবি করেন। কিন্তু কেন্দ্র থেকে তাকে নিরাশ করে মনোনয়ন দেয়া হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদকে। তাই দলটি অস্তিত্ব রক্ষায় পঞ্চগড়ের দুটি আসনেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার ঘোষণা দেন তারা।

জাপার প্রয়াত সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টোকরাভাসা হওয়ায় তাদের নিজস্ব একটা ভোট ব্যাংক রয়েছে। যে ভোটগুলো এর আগে বিএনপি পেয়ে আসছিল। তাই এবার এই ভোট জাগপার থলিতেই পড়ছে।এদিকে পঞ্চগড়-১ আসনে গত নির্বাচনে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু সালেককে মনোনয়ন দেয়া হলেও তিনি জাসদের প্রার্থী নাজমুল হক প্রধানের কাছে পরাজিত হন। তার দাবি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অসহযোগিতার জন্যই তাকে পরাজিত হতে হয়েছে। তাই এবারও তিনি পঞ্চগড়-১ আসনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দাবি করেছিলেন। কিন্তু পঞ্চগড়-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মজাহারুল হক প্রধানকেই মনোনয়ন দেয়া হয়। এরপর এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু সালেক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার ঘোষণা দেন। মহাজোট হওয়ার পর থেকে জাতীয় পার্টির ভোটগুলো আওয়ামী লীগ পেয়ে আসছে। সেই ভোটও এবার জাতীয় পার্টির দখলে থাকছে।

শরিক দলগুলো নিজেদের ভোট টানার পাশাপাশি বাড়তি ভোট নিজেদের দখলে নিতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে প্রধান দুই দলের নেতাকর্মীরা তা অস্বীকার করে জানান, শরিকদের নিয়ে তারা তেমন ভাবছেন না।পঞ্চগড়-২ আসনে জাপার প্রার্থী ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, আমরা শরিক দল হিসেবে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু সারা দেশে আমাদের একটি আসনও দেয়া হয় নি। তাই আমাদের দলের স্বার্থে হুক্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতেই হয়েছে। দুই আসনেই আমাদের নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংক আছে। অন্যান্য দলের ভেতরে কোন্দল আছে। তাছাড়া বিএনপি শক্তিশালী প্রার্থী দিতে না পারায় আমরা আশা করছি এবার জয় আমাদের হবেই।

পঞ্চগড়-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু সালেক বলেন, ২০০৮ সালে আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছিলাম বলেই তারা জয়ী হয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে তাদের একাংশ আমার বিপক্ষে কাজ করেছে বলেই মহাজোটের প্রার্থী হওয়া সত্যেও আমি জয়ী হতে পারিনি। এবার আমরা দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তেই লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছি। এবার আমরা শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র প্রচার প্রচারণা চালিয়েছি। পল্লীবন্ধু এরশাদ পঞ্চগড়কে জেলা করেছে। ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। এখানকার মানুষ তা ভুলে যায়নি। মানুষ নিশ্চয়ই আমাদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।

জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আব্বাস আলী জানান, জাতীয় পার্টিকে নিয়ে ভাববার মতো কিছু নেই। তাদের জনসভায় ৫০ থেকে ৮০ জন লোক হয়। এছাড়া ওই দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা আমাদের সাথে আছেন। আমাদের যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে তাতে জয় আমাদের হবেই।পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র আদম সুফি জানান, জাপা আমাদের ভোটে কোন প্রভাব ফেলবে না। কারণ তাদের তেমন কোন ভোট নেই।উল্লেখ্য, উল্লিখিত দলের পাশাপাশি পঞ্চগড়-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল্লাহ ও পঞ্চগড়-২ আসনে কামরুল হাসান প্রধান হাতপাখা প্রতীকে, পঞ্চগড়-১ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী হাবিবুর রহমান ও পঞ্চগড়-২ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী ফয়জুর রহমান মিঠু আম প্রতীকে, পঞ্চগড়-১ আসনে জাকের পার্টির প্রার্থী সুমন রানা গোলাপ ফুল প্রতীকে ও পঞ্চগড়-২ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী আশরাফুল আলম নির্বাচন করছেন। নির্বাচনী প্রচারণা শেষ দিন পর্যন্ত প্রায় সব দলের নেতাকর্মীরা মাঠে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পাড় করলেও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির কোন প্রার্থী মাঠে দেখা যায়নি। সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

ad

পাঠকের মতামত