243637

দেশবাসীর প্রতি ড. কামালের আহবান

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের সাহস করে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট বিপ্লবে অংশ নেওয়ার আহবান জানিয়েছে ড. কামাল আহমেদ। শুক্রবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শুনান ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমিটির আহবায়ক জগলুল হায়দায় আফ্রিক।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, নেতাকর্মী-সমর্থকদের মাঠে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। ঐক্যফ্রন্টকে প্রচারণায় নানাভাবে বাধা দেওয়া ও গণগ্রেপ্তারের বিষয়টি আজ সবার জানা। তারপরও ভোটাররা কিন্তু থেমে নেই। তারা নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিয়ে যার যার এলাকায় ফিরে গেছেন কাঙ্ক্ষিত ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য। তারা মূলত ভোট উৎসবের অপেক্ষায়। তাই যতই বাধা দেওয়া হোক না কেন, এই ভোটারদের কেউ ধমিয়ে রাখতে পারবে না। এমনকি রাজধানী ঢাকার রাস্তাঘাট প্রায় খালি হয়ে গেছে। সবাই স্বউদ্যোগে নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন ভোট উৎসবে অংশ নেওয়ার জন্য।

নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে উল্লেখ করে এতে আরো বলা হয়, প্রার্থী-নেতাকর্মী-সর্মথকদের উপর দমন-পীড়ন কিন্তু থেমে নেই। সহিংসতা চলছেই। চলমান সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। নির্বাচনের দিন ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা করছেন স্বয়ং মার্কিন রাষ্ট্রদূত। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবও। তাদের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, ভোটের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য। কিন্তু ভীতিকর অবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি বা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ড. কামাল হোসেন জাতির উদ্দেশ্যে আহবান জানিয়েছেন, সাহস করে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট বিপ্লবে অংশ নেওয়ার জন্য।

এদিকে বারবার নির্বাচন কমিশনকে বলার পরও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আক্রমণাত্মক ভূমিকার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। বরং দিনকে দিন বেড়েই চলেছে আক্রমণের ধরন। এদিকে ইন্টারনেটের গতি না কমানোর একাধিকবার আহবান জানানো সত্তেও তা মানা হচ্ছে না। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচন সংক্রান্ত সার্বিক খবরাখবর দ্রুত জানার স্বার্থে ফোর-জি সচল রাখার আহবান আবারও জানাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।নির্বাচনের দিন অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনৈক কর্মকর্তাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশ প্রমাণ করে সেদিন রক্তক্ষয়ী পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা অথবা জনমনে ভীতি সঞ্চার করার জন্য এসব বলা হচ্ছে। এতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী-নেতাকর্মী-সমর্থকরা মোটেও ভীত নন। ভোটাররাও ভয় পাবেন না। বরং তারা সবকিছুকে তুচ্ছ প্রমাণ করে ৩০ ডিসেম্বর ভোট বিপ্লব ঘটানোর মিছিলে শামিল হয়ে কাঙ্ক্ষিত বিজয়ে অবদান রাখবেন বলে ঐক্যফ্রন্টের দৃঢ় বিশ্বাস।

গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ঐক্যেফ্রন্টের এই নেতা বলেন, তফসিল ঘোষণার দিন কারাগারে ছিল ৯০ হাজার বন্দি। অথচ বৃহস্পতিবার দাঁড়ায় ৯৭ হাজারে। বর্তমানে সেটা বেড়ে লক্ষাধিক। ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে ৮৪৪টি, আহত হন ১৩ সহস্রাধিক, নিহত ৯ জন, হামলা হয়েছে ২ হাজার ৮৯৬টি। এ পরিসংখ্যান জ্যামিতিক হারে বাড়ছেই। গতকাল রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারাদেশে চিরুনি অভিযান চালিয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের যেখানেই পেয়েছে গণহারে গ্রেপ্তার করেছে। গণগ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের কারাগারগুলোকে ঐক্যফ্রন্ট নেতাকর্মীদের দিয়ে ভরে ফেলা হচ্ছে।এছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রায় দুই ডজন প্রার্থী কারাগারে রয়েছেন।

এতকিছুর পরও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার হেন কোনো চেষ্টা নেই, যা করা হচ্ছে না। দেশব্যাপী চলছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী-নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপর একতরফা বর্বর হামলা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, প্রচারে বাধা, দলীয় অফিস ও নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা-ভাংচুর অব্যাহত। ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা চলছেই।শুক্রবার সকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের লালমাটিয়ার বাসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাণ্ডব চালিয়েছে। তারা আলালের স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। এ সময় মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বাসায় ছিলেন না।

তফসিল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ সহস্রাধিক ঐক্যফ্রন্ট নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এভাবে ঢালাও আটকের মধ্য দিয়ে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টদের টার্গেট করে গ্রেপ্তার চালানো হচ্ছে। মূলত নির্বাচন কেন্দ্রে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর এজেন্টশূন্য রাখার অপরিণামদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। ধরপাকড়ের নামে ক্ষমতাসীনদের নীলনকশা বাস্তবায়নের এমন অশুভ কার্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্ট সব মহলকে অবিলম্বে সরে আসার আহবান জানাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার রাত থেকে চিরুনি অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ অভিযানের মাধ্যমে তারা ঐক্যফ্রন্ট নেতাকর্মী-সমর্থকদের টার্গেট করে আটক করছে। যেখানে যাকে পেয়েছে তাকেই আটক করে নিয়ে গেছে। এভাবে দমন-পীড়ন ও গণগ্রেপ্তার চালিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখা যাবে না।

দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ৩০ ডিসেম্বর ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করে দেবে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের কাছে সে প্রত্যাশাই করছে। ঐক্যফ্রন্টের ভরসা দেশের জনগণ তথা সর্বস্তরের ভোটার। যারা অতীতে কখনো সময়ের সাহসী ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেননি, তারা এবারও ভুল করবেন না। সব ধরনের ভয়-ভীতিকে তুচ্ছজ্ঞান করে ঐক্যবদ্ধভাবে বীরের মতো ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হবেন তারা। এই দেশের সংগ্রামী জনতা ৩০ ডিসেম্বরের ভোটযুদ্ধে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে চলমান আগ্রাসন মোকাবিলাপূর্বক তাদের মূল্যবান ভোট প্রয়োগ করবেন গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য, দেশের মালিক জনগণ- সে মালিকানা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে, আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার দৃঢ়প্রত্যয়ে।প্রিয় দেশবাসী ও ভোটাদের প্রতি আবারও আমার আকুল আবেদন, ৩০ ডিসেম্বর ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দ্বিধাহীন চিত্তে আপনার মূল্যবান ভোট প্রয়োগ করে দেশের স্বাধীনতা এবং আপনাদের মালিকানা নিশ্চিত করবেন। দেশবাসীর প্রতি এটাই আমার প্রত্যাশা।

ad

পাঠকের মতামত