৬০ টাকা প্রতি ঘণ্টায়!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। বেশি রোজগারের জন্য বেশি কাপড় খুলতে হয়। ফুলের পাপড়ির মতো শরীর যত অনাবৃত হবে রেট ততই বাড়বে। বসে থাকতে হবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। প্রতি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা রোজগার। দূর থেকে সবাই দেখবে। প্রয়োজন পড়লে ছোঁবেও। তবে এই ছোঁয়ায় যৌনতা নেই। শরীর আছে, অথচ কামনা নেই। এখানে আছে ‘আত্মার বহিঃপ্রকাশ’। এখানে সাদা ক্যানভাস ফুটিয়ে তোলে শরীরের প্রতিটা রোম, চোখের প্রতিটা পলক। ভাঁজে ভাঁজে বিভাজিত হয় বক্ষ। কিন্তু কোথাও কোনো অপবিত্রতা নেই। এই কাজ শিল্পের জন্য। শিল্পীর জন্য।
সংস্কৃতি চর্চায়, বিশেষ করে আঁকায় বিমূর্তকে মূর্ত রূপ দিতেই ন্যুড মডেলদের ব্যবহার করা হয়। কলকাতা তো বটেই দেশের সমস্ত কৃষ্টিক্ষেত্রেই এই পেশার চল আছে। লক্ষ্মী (কল্পিত নাম), একজন ন্যুড মডেল। উনি চেয়েছিলেন ছেলে মেয়েদের একটা স্বপ্ননীড় গড়ে দিতে। সেখানে একটা জাগরণ হবে (গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠানের সময় ঈশ্বরের নাম সংকীর্তন)। সেই স্বপ্ন নিয়েই ন্যুড মডেল হওয়া। লক্ষ্মীর সেই স্বপ্ন পূরণও হচ্ছে ধীরে ধীরে। কারণ এখন সে আর্ট কলেজের অন্যতম মডেল।
প্রথম যেদিন নিজেকে এই পেশায় নিয়ে এসেছিলেন, একেবারেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন না তিনি। পোশাক খুলতে হবে, এটা ভেবেই যেন হিমশীতল স্রোত বয়ে যেতো। তবে দিন যত এগিয়েছে, এই কাজে নিজেকে ততটাই পেশাদার করে তুলেছেন লক্ষ্মী। লক্ষ্মীর কথায়, ‘শরীরের আর কি, মরে গেল সব পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।’
লক্ষ্মী মনে করে, যেভাবে গান, সিনেমা, লেখার মধ্য দিয়ে শিল্পী ও তার সৃষ্টি অমরত্ব পায়, তিনিও সেই পথের পথিক। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা তাকে দূর থেকে দেখে, তার ছবি আঁকে। প্রতিদিন তার নতুন নতুন মূর্তি তৈরি হয়। এদিকে শিক্ষার্থীরাও বিদ্যা অর্জন করছে। আর এই শিক্ষার্থীরাই লক্ষ্মীকে যে সম্মান দিয়েছে তা তিনি আর কোথাও পাননি।
একটা ক্লাসে একসঙ্গে ১৫ থেকে ২০ জন লক্ষ্মীর ছবি আঁকে। হিসেব করে দেখলে বছরে লাখো ছবি তৈরি হয় লক্ষ্মীর। সেখান থেকে অনেক ছবিই আবার উপহার হিসেবে পেয়েছেন তিনি। সূত্র: জি নিউজ।




