নির্বাচনে ১৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক অনিশ্চয়তায়
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস’ (এএনফ্রেল)-এর পর্যবেক্ষকরা আসতে না পারার পর এবার দেশি পর্যবেক্ষকদের নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।দেশি পর্যবেক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনী ব্যায়ের জন্য যে বিদেশি অনুদান এসেছে তা এখনো ছাড় না পাওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারপার্সন আব্দুল আউয়াল।সোমবার তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা ১৫ হাজার পর্যবেক্ষকের অনুমোদন পেয়েছি। তবে যেহেতু এসব প্রকল্পে বিদেশি অর্থায়নের বিষয় রয়েছে, তাই সেটা ছাড় করাতে তাই এনজিও ব্যুরোর ছাড়পত্র লাগবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা সেই ছাড়পত্র পাইনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের কাজ করার জন্য অনেক প্রস্তুতি এবং প্রশিক্ষণের ব্যাপার রয়েছে। তাই আগামী দুইদিনের মধ্যে এসব ছাড়পত্র না পেলে হয়তো আমাদের পক্ষেও কাজ করা সম্ভব হবে না।এদিকে ১৬টি দেশ ও সংস্থা থেকে ১৭৮জন বিদেশী পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তবে এ পর্যন্ত মাত্র ১৬জনের আসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পেরেছে নির্বাচন কমিশন।নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, অনেকগুলো দেশ ও সংস্থাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত ফেমবোসার (ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়া, যার মধ্যে রয়েছে ভারত, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, ভুটান, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা) দেশগুলো থেকে ১৪জন আর কমনওয়েলথ থেকে দুইজন পর্যবেক্ষক আসার বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।
অন্যদিকে সঠিক সময়ে ছাড়পত্র ও ভিসা দিয়ে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের আসতে দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি হতাশা ব্যক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র যে বিবৃতি দিয়েছিল তার জবাব দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।শনিবার সন্ধ্যায় বিবৃতিতে ‘যথাযথ সময়ের মধ্যে পরিচয়পত্র ও ভিসা দিতে পারেনি’ মর্মে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ওই বিবৃতি দিয়েছিল। ওই বিবৃতির জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার (২৩ ডিসেম্বর) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিত দিয়েছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনা করছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন, যা একটি সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন তা নির্ধারণ করার জন্য প্রতিষ্ঠানটির বিধিবিধান রয়েছে। পর্যবেক্ষণে ইচ্ছুক ‘এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস’ (এএনএফআরইএল) যে তাদের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে, তা একেবারেই তাদের নিজস্ব বিষয়। সূত্র: যুগান্তর




