241656

নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সর্বোত্তম ব্যবহার আবশ্যক : মাহবুব তালুকদার

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সর্বোত্তম ব্যবহার আবশ্যক বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। আজ রোববার সকালে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।সিলেট বিভাগে নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘২৪ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। সেনাবাহিনী আমাদের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক। আমি মনে করি, অতীতের সংসদ নির্বাচনগুলোতে সেনা মোতায়েনের মূল্যায়ন পর্যালোচনা করে নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সর্বোত্তম ব্যবহার আবশ্যক। এবারের জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ সমগ্র জাতীর আস্থার সংকট মোচন করেছে।’

নির্বাচন আর সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা চাই, সিলেট বিভাগে অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একজন ভোটার যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজ ইচ্ছামতো ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই।’নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘একটা কথা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, নির্বাচনী দায়িত্ব যারা পালন করবেন তাদের কাছে পক্ষপাতমূলক আচরণ কখনো আশা করি না। আমরা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে দায়িত্ব পালন করতে আসিনি। সকল প্রার্থী আমাদের কাছে এক ও অভিন্ন। তাদের প্রতি আচরণে আপনাদের ভূমিকা হবে বিচারকের মতো নির্মম। তাই কঠোরভাবে নিরপেক্ষতার মধ্যদিয়ে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশারাখি।’

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে অতিগুরুত্বপূর্ণ পবিত্র আসনে যারা বসবেন, তারা ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে আসবেন এটাই হবে প্রত্যাশা। পেশিশক্তি বা কালোটাকার মাধ্যমে কেউ যেন সেই আসনে বসতে না পারে। আমাদের স্বাধীনতার পূর্বশর্ত যদি হয়ে থাকে গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের পূর্ব শর্ত হয়ে থাকে নির্বাচন-তাহলে এই নির্বাচনকে অবশ্যই স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হতে হবে।’ডিসেম্বর বিজয়ের মাস উল্লেখ করে মাহবুব বলে, ‘এটা বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শর্ত নিয়ে।

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর একটি গণনযোগ্য নির্বাচন আমরা করতে পারব না-তা কখনো হতে পারে না। আমাদের দেশ ছোট হতে পারে কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা অনেক বড়। তাই আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখার এই নির্বাচনে আমরা অবশ্যই সফল হবো। আসুন আমরা সবাই মিলে একটি শুদ্ধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করে মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের ঋণ শোধ করি।’মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়াসহ সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবির প্রতিনিধিরা।

ad

পাঠকের মতামত