241596

যে কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন লতিফ সিদ্দিকী

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত দলের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।রোববার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এসে সিইসির কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন লতিফ সিদ্দিকী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেন তিনি।লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি যে, আমি ১৩৩ টাঙ্গাইল-৪ জাতীয় সংসদ আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ যে নির্বাচন করার পরিবেশ নেই। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় রাজনৈতিক দলে, নেতায় নেতায় জনমতকে পক্ষে পাওয়ার থাকে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। কিন্তু বর্তমান সংসদ সদস্য বালু ব্যবসায়ী এবং মাদক ব্যবসায়ী সাথে নিয়ে পুলিশের ছত্রছায়ায় আমার উপর হামলা করে গাড়ি ভাঙচুর করে, ২০/২১ জন সমর্থক আহত হয়। এলাকাকে ত্রাস ও সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত করেছে। আমি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘদিন পুলিশী জুলুমের বিরুদ্ধে লড়েছি, কিন্তু পুলিশ এমন উলঙ্গভাবে কোনো প্রার্থীর সমর্থন করে নিরীহ মানুষদের হুমকি দেয়, আমার মিছিল বন্ধ করে সংসদ সদস্যের মিছিলে সহযোগিতা করে এমন দেখেনি। পুলিশের অত্যাচারের পরও আন্দোলন করা যায়, পুলিশ বিপক্ষে অবস্থান নিলে নির্বাচন করা যায় না’।

‘প্রতিদিন আমার সমর্থকদের গ্রেপ্তার করে হয়রানি করছে। সংসদ সদস্যের সরাসরি হস্তক্ষেপে, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার উসকানিতে আসার অফিস ভেঙ্গে দিচ্ছে। পরিস্থিতি এহেন অবনতিতে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে। আমি আপনার মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে চাই, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আমি সরে দাঁড়ালাম’।‘আমি অসম্মানিত হই সম্মানিত হওয়ার জন্য। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’।এর আগে গত রোববার লতিফের নির্বাচনী এলাকা কালিহাতীর গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের সরাতৈল এলাকায় তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও চারটি গাড়ি ভাঙচুর হয়। এ হামলার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমামের কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করে তিন দফা দাবিতে সেদিনই জেলা রিটার্নিং কার্যালের সামনে অবস্থান নেন লতিফ।

২৪ ঘণ্টা পরও প্রশাসন সেসব দাবির বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় সোমবার তিনি আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন। তার দাবিগুলো হল- কালিহাতী থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেনকে প্রত্যাহার করতে হবে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। আর সরকারদলীয় প্রার্থীকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মুচলেকা দিতে হবে যে, নির্বাচন পর্যন্ত আর কোনো সহিংসতামূলক কার্যকলাপ তিনি করবেন না।পুলিশ মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত চারজনকে আটক করলেও লতিফের অন্য দাবিগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। কর্মী সমর্থকরা শুরুতে লতিফ সিদ্দিকীর জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে তাঁবু খাটিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বারান্দায় নেওয়া হয়। ওষুধ না খাওয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।এ অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মোফাজ্জল হোসেনকে প্রধান করে আট সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় লতিফ সিদ্দিকীর জন্য।

ad

পাঠকের মতামত