বুলেট ট্রেন চালু করা হবে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের মধ্যে : প্রধানমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক।। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এবার ক্ষমতায় এলে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের মধ্যে বুলেট ট্রেন চালু করা হবে।’ মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের মধ্যে বুলেট ট্রেন চালু করা হবে। এছাড়া, দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোকে আধুনিকায়ন করা হবে।’ আবার ক্ষমতায় এলে একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ বিমান বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন কাজও ত্বরান্বিত করা হবে।
বিগত ১০ বছরে যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ সময়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার মহাসড়ক মজবুত, সম্প্রসারণ, সংস্কার বা কার্পেটিং করেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, নবীনগর-চন্দ্রাসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৪২০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চারলেন বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ করা হয়েছে। ৯১৪টি সেতু, ৩ হাজার ৯৭৭টি কালভার্ট নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে।’
ইশতেহারে ঢাকা মহানগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় মেট্রোরেল বাস্তবায়ন করার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের নির্মাণ কাজ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত অংশ পরের বছর ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হবে। তৃতীয় পর্যায়ে পল্লবী থেকে উত্তরা পর্যন্ত ৪.৭ কিলোমিটার অংশ চালু হবে ২০২২ সালে।’
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জের কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ চার-লেন বিশিষ্ট প্রথম ঢাকা এলিভেটড এক্সপ্রেসওয়ে তিনটি পর্বে নির্মিত হওয়ার কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে আশুলিয়া হয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আরেকটি এলিভেটেড এক্সপ্র্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া, ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নামে সাভারের হেমায়েতপুর হতে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।ে
ইশতেহারে আগামী ৫ বছরে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করা কথাও বলা হয়েছে ইশতেহারে। মহাসড়কের পাশে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের নিরপত্তার জন্য আন্ডারপাস/ওভারপাস র্নিমাণ করা এবং উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার জন্য যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করার অঙ্গীকার করা হয়।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, প্রকৌশলী, বুদ্ধিজীবী, তরুণ সমাজের প্রতিনিধি, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, দেশি-বিদেশি সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।




