239366

ধানের শীষের ডজনখানেক প্রার্থী নিয়ে বিতর্ক

বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন এমন এক ডজনের বেশি প্রার্থীর বিরুদ্ধে মারাত্মক সব অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রার্থীদের অনেকেই যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের স্বজন কিংবা স্বাধীনতার বিরোধিতা ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক।বিজয়ের মাসে এসব প্রার্থীদের নাম উল্লেখ করে তাদের ভোট না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাদের প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানানো হয়েছে।মনোনয়ন দেওয়ার সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধিতাকারীদের কাউকে ধানের শীষ না দেওয়ার কথা বললেও এ ধরনের অভিযোগবিদ্ধ এক ডজনের বেশি প্রার্থীর খোঁজ পাওয়া গেছে।

বগুড়া-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন মুহিত তালুকদার, তার ভাই আব্দুল মোমিন তালুকদার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক রয়েছেন।যুদ্ধাপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে পিরোজপুর-১ আসনে নির্বাচন করছেন।তার মনোনয়ন নিয়ে পিরোজপুর জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গৌতম নারায়ন চৌধুরী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, শহীদ পরিবারের সন্তানসহ বাংলাদেশের জনগণের দাবি ছিল, কোনো স্বাধীনতাবিরোধী কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যরা যেন কোনো রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন না পান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য তাদের অনেকেই বিএনপির ধানের শীষে নির্বাচন করছেন।

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম জেলা জামায়াতের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।একাত্তরে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বদরুদ্দোজা বদর বলেন, মাওলানা আব্দুল হাকিম জেলা জামায়াতে ইসলামীর এক নম্বর নেতা। তিনি এক সময় ছাত্রসংঘ করতেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায় ছিলেন।তার অভিযোগ অস্বীকার করে হাকিমের ভাই রমজান আলী দাবি করেন, একাত্তরে তার ভাই পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। তার মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয় বা বিরোধিতা করার বয়স তখন ছিল না। কেবল একজন মাওলানা বলে তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

সাতক্ষীরা-৪ আসনে ধানের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। এক সময় জাসদ ছাত্রলীগ করলেও এখন তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা।নাশকতার মামলায় কারাবন্দি জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলামকে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়েছে।এছাড়াও জঙ্গিবাদে পৃষ্ঠপোষকতা এবং ২১ অগাস্ট হামলাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্তদের পরিবারের অনেকেই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।নওগাঁ-৬ থেকে আলমগীর কবির, রাজশাহী-৫ আসনে নাদিম মোস্তফা, নাটোর-১ আসনে রুহুল কুদ্দুস দুলুর স্ত্রী, রাজশাহী-১ আসনে ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও রাজশাহী-২ আসনে মিজানুর রহমান মিনু ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন। এদের সবার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ওই এলাকায় ‘বাংলা ভাই’জেএমবি সদস্যদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া টাঙ্গাইল-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ছোট ভাই। তাদের আরেক ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনের ধানের প্রার্থী ইসহাক চৌধুরী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর বড় ভাই। ভারতে বসে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে ‘দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র’করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আসলাম।রংপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রিটা রহমান বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা খায়রুজ্জামানের স্ত্রী।২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান নেত্রকোনা-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী।

ad

পাঠকের মতামত