238338

বিএনপি প্রার্থীর ওপর হামলা, ছাত্রলীগ নেতার ৩ মাসের সাজা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে বিএনপি প্রার্থী মান্নানের উপর হামলা চালিয়েছে এক ছাত্রলীগ নেতা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সভা চলার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার এবং সোনারগাঁও থানার ওসির সামনেই এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।হামলার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে সোনারগাঁ পৌরসভা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রনি বিল্লাহকে আটক করা হয়। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সোনারগাঁও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বিএম রুহুল আমিন রিমন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে রনিকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সম্মেলনকক্ষে মতবিনিময় সভা হয়। আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনে আচরণবিধি–সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। ইউএনও শাহীনুর ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় একাদশ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা, তাদের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা চলাকালীন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হঠাৎ সভাকক্ষে ঢোকেন সোনারগাঁ পৌরসভা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রনি বিল্লাহ। ঢুকেই বিএনপির প্রার্থী আজহারুল মান্নানের ওপর হামলা চালান তিনি। ইউএনও, থানার ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সামনে এ ঘটনা ঘটার পরপরই রনিকে আটক করা হয়। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরা সভাকক্ষে বিক্ষোভ শুরু করে। এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সারের পক্ষে সভায় ছিলেন আরিফ মাসুদ। তিনি বলেন, ‘যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, তার নিন্দা জানাই। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

বিএনপির প্রার্থী আজহারুল মান্নান বলেন, আমাকে গলা চেপে হত্যা করার জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কত অবনতি, আজকের ঘটনাই এর প্রমাণ।ইউএনও শাহীনুর ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে সম্মেলনকক্ষে প্রবেশ করে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়া হয়েছে।রনি বিল্লাহর সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করেন সোনারগাঁ পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, রনি কেন এ ঘটনা ঘটালেন, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোরশেদ আলম জানান, উপজেলা পরিষদের ভেতরে নির্বাচনী আচরণবিধির বিষয়ে ইউএনও, আমি, নির্বাচন অফিসারসহ আমরা সবাই মিটিংয়ে ছিলাম। এমন সময় হঠাৎ করেই রনি বিল্লাহ নামে ছেলেটি দৌঁড়ে এসে ওনার (আজহারুল ইসলাম মান্নান) মাথায় পানি ঢেলে ও পাঞ্জাবির কলার ধরে টেনে নিচে নামিয়ে ফেলে। আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে তাকে আটক করি।ওসি আরো বলেন, রনি ইন্টারনেটের লাইনের কাজ করে। তবে আমি শুনেছি রনি বিল্লাহ পৌরসভা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

ad

পাঠকের মতামত