মির্জা ফখরুলের কন্ট্রোলের বাইরে…
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির ভেতরে জগাখিচুড়ি অবস্থা বিরাজ করছে। সব নেতা এখন মির্জা ফখরুলের কন্ট্রোলের বাইরে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও এখন ঐক্যবদ্ধ নয়।ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এমন মন্তব্য করেন। বিএনপিসহ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট না এলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে না। অবশ্য নির্বাচনে না এলে বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে, সেটা তারাও জানে।’
জামায়াতের প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়নপত্র দাখিল করার বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘এটা অভিনব কিছু নয়। জামায়াতকে ছাড়া বিএনপি অচল। তারা একসঙ্গেই কাজ করছে, রাজনীতি করেছে এবং সাম্প্রদায়িকতা করেছে। তারা একই বৃন্তে দুটি ফুল। ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে মিলে জামায়াতও সহিংসতা সৃষ্টি করেছে।’বিএনপি থেকে জঙ্গিদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই যে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, সে জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত নয়? বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ রকম অনেক জঙ্গিকে তারা মনোনয়ন দিয়েছে বলে আমরা জানি। এগুলো তাদের জন্য নতুন কিছু নয়।’
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের হয়রানি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা তথ্য-প্রমাণ দিয়ে বলুক যে কোথায় কোথায় বিএনপির প্রার্থীকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাহলে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে। অন্ধকারে ঢিল ছোড়া বিএনপির পুরনো অভ্যাস।সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নেতারা নিজেদের কারণে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। এটা তাঁদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। যত দূর জানি, বিএনপির মধ্যে দুজন আছেন যাঁরা কাঙ্ক্ষিত আসন পাননি বলে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। আর মির্জা আব্বাস সময়মতো মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় নির্বাচন কমিশন তা জমা নেয়নি।’
জাতীয় পার্টি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা জাতীয় পার্টিকে বলেছি প্রয়োজনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে দিতে। কিন্তু যোগ্য ও জেতার মতো প্রার্থী হতে হবে। আমরা যাঁদের যোগ্য ও জয়ী হওয়ার মতো মনে করেছি, তাঁদের মনোনয়ন দিয়েছি।’সংবাদ সম্মেলনের আগে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সঙ্গে বৈঠক করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল। ওই বৈঠক প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইউরোপীয় পার্লামেন্ট মনে করেছে, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে নির্বাচনের সহায়ক পরিবেশ বিরাজ করছে। তাই তারা নির্বাচনের সময় পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: কালের কন্ঠ




