৩০০ আসনে এমপি হতে চান ৩০৫৬ জন
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ৩০০ আসনে ৩০৫৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। এরমধ্যে অনলাইনে মনোনয়ন জমা পড়েছে ৩৯টি।এদিকে, নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কোথাও কোথাও শোডাউন ও শোভাযাত্রা বা মিছিল দেখা গেছে। মনোনয়নপত্র জমাকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।এদিকে ঢাকার-২০ আসনে মনোনয়ন জমা পড়েছে ২৬৮টি। সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এসব মনোনয়নপত্র দাখিল করছেন প্রার্থী।
এ ব্যাপারে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কে এম আলী আজম নিজ কার্যালয়ে বলেন, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে মনোনয়ন জমা নেয়ার কাজ শেষ হয়েছে। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।গত ৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এর চারদিনের মাথায় কমিশন নির্বাচন এক সপ্তাহ পিছিয়ে পুনঃতফসিল দেয়। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৮ নভেম্বর। প্রার্থিতা বাছাই ২ ডিসেম্বর। মনোয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ ডিসেম্বর ও ভোট গ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর।এ হিসাবে বুধবার বিকাল ৫টায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষ হয়। এবারের নির্বাচনে দেশের নিবন্ধিত ৩৮টি রাজনৈতিক দলের প্রায় সব দলই অংশ নিচ্ছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। তবে, বেশিরভাগ দলই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করলেও এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি।
এদিকে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দুই আসনে। আসন দু’টি হলো গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ)। অবশ্য রংপুর-৬ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বর্তমানে টুঙ্গিপাড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি গোপালগঞ্জ-৩ ও রংপুর-৬ আসনে বিজয়ী হন। পরে তিনি রংপুর-৬ আসন ছেড়ে দিলে সেখানে উপ-নির্বাচনে শিরীন শারমিন নির্বাচিত হন।
বর্তমানে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৩টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এগুলো হলো—বগুড়া-৬ (সদর) ও ৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) এবং ফেনী-১ (পরশুরাম-ফুলগাজী-ছাগলনাইয়া)। তবে, উচ্চ আদালতের আদেশে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেকটা অনিশ্চিত থাকায় খালেদা জিয়ার জমা দেওয়া প্রতিটি আসনেই দলের বিকল্প প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে বগুড়া-৬ আসনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে মোরশেদ মিল্টন ও ফেনী-১ আসনে যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম মজনু।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঢাকা-১৭ ও রংপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এরশাদের পক্ষে প্রতিনিধিরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরশাদ বর্তমানে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি ঢাকা ১৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও শেষ সময়ে তা প্রত্যাহার করে নেন।বর্তমান সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও এইচএম এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ-৪ (সদর) ও ৭ (ত্রিশাল) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান ড. একিউএম বদরুদৌজা চৌধুরী নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না।




