233121

নাটকীয়তার পর ধানের শীষ পেলেন আলমগীর ফরিদ

অনেক নাটকীয়তার পর অবশেষে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।মঙ্গলবার দুপুরে তাকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেয় মনোয়ন বোর্ড। বিগত দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে অনেকটা আড়ালে থাকা এ প্রভাবশালী নেতার মনোয়নপত্র সংগ্রহের খবরে নতুন করে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে বিএনপি পাড়ায়। আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করেছেন মহেশখালী-কুতুদিয়ায় ছড়িয়ে থাকা কর্মী-সমর্থকরা।

দলীয় সূত্র জানায়, বিগত ২০০৬ সালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আলমগীর ফরিদকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। ওই সময় তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও সেবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। মাঝখানে তত্ত্বাধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালে। তখন জেলে থাকায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তখন জেলা বিএনপির রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েন আলমগীর ফরিদ। জেলার নেতাদের সাথে বাড়তে থাকে দূরত্ব। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশে নতুন করে ‘ঘর গোছানোর’ কাজ শুরু করে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে দলের সংস্কারপন্থি হিসেবে দূরে থাকা নেতাদেরও ডাক পড়ে। সম্প্রতি আলমগীর ফরিদারের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে কেন্দ্র। এরপর প্রার্থীতার আশায় তিনি দল থেকে মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেন।সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন, আলমগীর ফরিদের দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার রাজনীতিতে আবারও তার রাজসিক প্রত্যাবর্তন হতে চলেছে। ভোটের মাঠে তৈরী হয়েছে নতুন সমীকরণ।

জেলা বিএনপির একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনটি এবারও জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতকে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ২০০৮ সালে এ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক সাংসদ, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ এবারও নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। তবে আইনী জটিলতার কারণে তার অংশগ্রহণের বিষয়ে সংশয় রয়েছে। এ কারণের বিকল্প হিসেবে আলমগীর ফরিদকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তবে তিনিই এখনও পর্যন্ত একমাত্র চূড়ান্ত প্রার্থী নন। যেকোন সময় এ সিদ্ধান্তের পরিবর্তনও হতে পারে। এর মধ্যে হামিদুর রহমান আজাদকে যদি আদালত নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করে সেক্ষেত্রে কপাল খুলবে আলমগীর ফরিদের।

আলমগীর ফরিদ এ আসন থেকেই ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং পরে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি নৌকার প্রার্থী সিরাজুল মোস্তফাকে ১২ হাজার ২ ভোটের ব্যবধানে এবং ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফরিদুল ইসলামকে ৫৪ হাজার ৩১৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারান্তরীন থাকায় আইনী জটিলতার কারণে তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। তখন বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের হয়ে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

ad

পাঠকের মতামত