232705

মাশরাফির যে বক্তব্য নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়

বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার রাজনীতিতে অন্তর্ভূক্তি নিয়ে সরগরম দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। নির্বাচনের ডামাডোলে প্রাথীরা স্বাভাবিকভাবে আলোচনার ইস্যু হলেও মাশরাফির ব্যাপারটা ভিন্ন।২০০১ সাল থেকে বর্তমান অব্দি বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের অংশ হয়ে থাকা মাশরাফিকে ক্রিকেটভক্তদের বাইরেও অনেকেই তার নেতৃত্বগুণ ও প্রভাব বিস্তারকারী চরিত্রের জন্য আদর্শ হিসেবে ভেবে থাকেন।

তবে এখন যখন মাশরাফি রাজনীতির ময়দানে নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে, তখন মাশরাফিকে নিয়ে জনমানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।মাশরাফি কেনো রাজনীতিতে, তিনি নিজে তার ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর ব্যখ্যা দিলে সেখানে প্রচুর মন্তব্য আসে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় সেখানে প্রায় ৩৬ হাজার মন্তব্য ছিল।শুধুমাত্র নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলে অংশ নেয়ার কারণে মাশরাফিকে নেতিবাচক মন্তব্য পেতে হয়েছে তার পেইজে। তাদের মধ্যে কিছু বাছাইকৃত মন্তব্য এখানে দেওয়া হলো।

ফখরুদ্দিন নামের এক ব্যক্তি লেখেন, ‘জগতে মানুষ যে কত রঙের হয় এই আপনাকে দেখে আরেকবার বুঝলাম। ইমরান খান হওয়ার যদি এতই সখ জাগবো তো নিজে আলাদা একটা দল গঠন করলেই ত পারতেন। ঘুরে ফিরে চ্যতনার ট্যাবলেট আপনেও খাইলেন।’শামসুদ্দিন নামে এক ব্যাক্তি মন্তব্য করেন, ‘রাজনীতি করতে তো কেউ নিষেধ করে নাই। একটি ন্যাশনাল টীমে থাইকা, পাবলিক মানি থেকে বেতন-ভাতা-প্রটোকল সুবিধাদি নিয়া একটা দলের হয়ে ইলেকশান করা নৈতিকতা বিরোধী।’যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। যেখানে কোনো বেতন-ভাতা জনগণের অর্থ থেকে আসে না।জুয়েল মাহমুদ বলেন, ‘দোয়া করছি রাজনীতির মাঠে প্রথম বলেই যেনো আউট হয়ে একই সাথে রাজনীতি এবং খেলার মাঠ থেকে বিদায় হয়ে জাতীকে আপনি এবং আপনার প্রিয় নেত্রী উদ্ধার করবেন। নিপাত যাক জননেতা মাশরাফি।’

‘বাঙ্গালি স্বভাবত হুজুগে নাচে। ক্রিকেটে কোন খেলোয়াড় ভাল খেললে তাকে বাহবা দিচ্ছে, সবাই মাথায় তুলে নাচে। কিন্তু একদিন খারাপ খেললে তাকে ছুড়ে ফেলতেও সময় দেয় না। তার সাথে গালিগালাজ ফ্রি। মাশরাফির প্রতি সবারই ভালবাসা সবসময় ছিল। ভাল খেললেও ছিল, খারাপ খেললেও ছিল। মাশরাফিই একমাত্র প্লেয়ার যার কোন হেটার্স ছিল না। কিন্তু রাজনীতিতে মাশরাফির আসার কথা শুনে কিছু লোক তাকেও গালাগাল করছে। আজ মাশরাফি যদি আওয়ামীলীগের না হয়ে সেই লোকগুলোর দলে যেতো, তাহলে কি তারা গালাগালি করত? মনে হয় না। কারণ তাদের অন্তরে এটা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যেই যাবে তাকে গালাগাল করতে হবে। আমার বিশ্বাস, ক্রিকেট জগতে মাশরাফি যে ভালবাসা অর্জন করেছে, রাজনীতির মাঠেও তারচেয়ে বেশি ভালবাসা অর্জন করবে,’ এই মন্তব্যটি করেন জাকারিয়া জ্যাক নামের একজন।

নেতিবাচক মন্তব্যের পাশাপাশি ইতিবাচক মন্তব্যের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।মাহামুদুল হাসান নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘একজন মাশরাফি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শত শত মাশরাফি রাজনীতি অঙ্গনে আসবে। এবং এই মাশরাফিদের হাত ধরে সুনাম নষ্ট হওয়া প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে মুক্তি পাবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল বাংলাদেশ। মাশরাফিরা কোন দলের হয়ে নয়, তারা নিজ এলাকা এবং দেশের জন্য রাজনীতিতে এসেছেন। সেজন্য মাশরাফিদের জন্যে থাকবে হাজারো শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা।’মাসুদ রানা সেই ফেসবুক পোস্টের নিচে লেখেন, ‘আপনাকে ভালোবাসার মানুষের অভাব নেই, কয়েকজন হয়ত কটু কথা বলবে কিন্তু নড়াইলের উন্নয়ন দেখে তাদের মুখ হয়ে যাবে বিশ্বাস করি… ক্রিকেটার মাশরাফি-কে যতটা ভালোবেসেছি, লিডার মাশরাফি কেও ততটাই ভালোবাসি…’

মূলত কী লেখা মাশরাফি বিন মর্তুজার সেই ফেসবুক পোস্টে?মাশরাফি বিন মর্তুজা আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন পত্র কেনার পর থেকেই তার পক্ষে বিপক্ষে নানা ধরণের মন্তব্য শোনা গিয়েছে।তাই মাশরাফি কেনো রাজনীতিতে এলেন এবং আওয়ামী লীগেই বা কেনো যোগ দিলেন তার ব্যখ্যা দিয়েছেন মাশরাফি।সেখানে এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আমাদের মতো মানুষ কেন রাজনীতিতে আসবে! সত্যি বলতে, আমি জানি না, আমি কেমন মানুষ। ভালোমানুষ হিসেবে আমার যে পরিচিতি ছড়িয়েছে, সেটাও আমার ভেতর বারবার প্রশ্ন জাগিয়েছে, কেন আমি ভালো মানুষ? দুটি বল করে, আপনাদের কয়েকটি আনন্দের মূহুর্ত উপহার দিয়ে, দু’জনকে জড়িয়ে ধরেই যদি ভালোমানুষ হওয়া যায়, তাহলে স্রেফ এরকম ভালো মানুষ হওয়ার ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না। সত্যিকার অর্থেই আমি কেমন মানুষ, আমার বিশ্বাস, সেটি বিচার করার সময় সামনে। যদি আমি নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারি এবং আমার দল সরকার গঠন করে, তারপর আমার কর্মেই ফুটে উঠবে আমি কতটা ভালো মানুষ।’ সূত্র: বিবিসি বাংলা

ad

পাঠকের মতামত