পাল্টে যেতে পারে আ’লীগের মনোনয়ন
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী প্রার্থী। বেছে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু নতুন মুখকে।মনোনয়নের চিঠি পেয়েও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না, তিনিই শেষ পর্যন্ত নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটের যুদ্ধে থাকবেন। নতুন চমকে পাল্টে যেতে পারে অনেক কিছু। এমনটাই দাবি করছে দলটির একটি সূত্র।ওই সূত্রটি আরও বলছে, রাজনীতির খেলায় বিরোধীদের উপর চাপ তৈরি করতে কিছু প্রার্থীর হাতে মনোনয়ন তুলে দেওয়া হয়েছে। মূলত তারা শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকবেন না। সেখানে আনা হবে নতুন কোনো প্রার্থীকে।
এর আগে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় ধানমন্ডিতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের মনোনয়ন–চিঠির সঙ্গে প্রত্যাহার–চিঠিতেও স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হচ্ছে।তিনি বলেন, ২৩০ টি আসনে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হলেও প্রয়োজনে প্রার্থীর ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে।কাদের বলেন, রোববার (২৫ নভেম্বর) সকাল থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের অনানুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে আগামীকাল বেলা সাড়ে তিনটায় জোটগত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। জোটের শরিকদের জন্য ৬০ থেকে ৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।ঠিক কতটি আসন শরিকদের দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি জানি কতটি আসন, কিন্তু বলব না। কাল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তবে জোটের আসন ৭০টির বেশি হবে না।’ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো কোনো আসনে মনোনয়নের চিঠি দুটিও দেওয়া হয়েছে। এটি টেকনিক্যাল কারণে। সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রার্থী বদলাতেও হতে পারে। অন্য প্রার্থী বেশি শক্তিশালী হলে দলের প্রার্থী বিবেচনা করা হবে।
বিএনপির সমালোচনা করে কাদের বলেন, বিএনপি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ ধরতে চাইছে বলেই পুলিশ প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করে যাচ্ছে। বিএনপির পরাজয়ের শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি। নির্বাচনে হেরে যাবে বলে পুলিশ, প্রশাসন, ইসি—সবাইকে টার্গেট করছে।অনেক প্রশ্নের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও দু’একদিন। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে মনোনয়ন না দিয়ে একরকম চমক সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগ।
বাদ পড়া হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৩ আসনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফরিদপুর-১ আসনে মনোনয়ন মনোনয়ন প্রত্যাশী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান, মাদারীপুর-৩ আসনে শেষ পর্যন্ত দৌঁড়েও মনোনয়ন পাননি সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।এছাড়াও সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করছেন না অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মনোনয়ন পেয়েছেন তার ভাই আব্দুল মোমেন।
বার্ধক্যজনিত কারণে গাজীপুর-৩ আসনে মনোনয়ন পাননি সাবেক মন্ত্রী রহমত আলী। বাদ পড়েছেন টাঙ্গাইলের আলোচিত সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা। হবিগঞ্জ ৪ আসন থেকে বাদ পড়েছেন মাহবুব আলী।শরীয়তপুর ১ আসন থেকে বিএম মোজাম্মেল হক ও ২ আসনে শওকত আলী মনোনয়ন পাননি। দলীয় মনোনয়ন পাননি কক্সবাজারের সমালোচিত এমপি আবদুর রহমান বদি, তবে ওই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন তার স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী।মনোনয়ন দৌঁড়ে বাদ পড়া নেতারা দলের মনোনীত নেতাদের জন্য কাজ করবেন বলে আশা করছে আওয়ামী লীগ।
এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হবেই। কারণ, দেশের মানুষ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সঙ্গে থাকতে পারে না। তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, উন্নয়নের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই বিজয়ী করবে। বিএনপি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রমাণ পাবে।তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত আবার ক্ষমতায় এলে ২০০১ সালের চেয়েও ভয়ংকর রূপে আর্বিভূত হবে। নয়াপল্টনের তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে মনোনয়ন ফরম বিতরণকালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে, পুলিশকে আহত করে, পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়ে ও গাড়ির ওপর নৃত্য করে তারা তা দেখিয়ে দিয়েছে। সূত্র: বিডি২৪লাইভ




