232493

মনোকষ্ট বিএনপির!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোকষ্ট নিয়ে শরীকদের আসন ছাড়ছে বিএনপি। কঠিন সময় দলের সাথে থেকেও শরীকদের জন্য আসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকেই। দু’একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন বিএনপির এমন নেতারা দাবি করেন, শরীকদের অনেকেরই নির্বাচনের মাঠে গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাই দলীয় প্রতীক দেয়ার আগে দলের শীর্ষ নেতাদের দ্বিতীয়বার ভেবে দেখতে আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মনোনয়ন পাবার আশায় নিজ নিজ এলাকায় এতোদিন কাজ করে এসেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতা শফিউল বারী বাবু ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলি। অথচ তাদের প্রত্যাশিত আসন দুটি ছাড়তে হচ্ছে শরিকদের জন্য। বাবুর আসন জেএসডির আ স ম আব্দুর রব এবং ইয়াছিন আলীর আসন এলডিপির শাহদাত হোসেন সেলিমের জন্য ছাড়তে হবে।স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারি বাবু বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যে একতা গড়ে তোলা হয়েছে সেখানে যদি মনোনয়ন না পাই তবে অবশ্যই এটি কষ্টের ও বেদনার।

অন্যদিকে, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলীর ভাষায়, আমার এলাকায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা রয়েছেন। তিনি আগে বিএনপি করতেন। মাঝে বেঈমানি করে দল ত্যাগ করে অন্য একটি দলে যোগ দিয়েছেন। তিনি যদি যোগ্য প্রার্থী হন তবে দল তাকে মনোনয়ন দেবেন। তবে আমি মনে করি আমার এলাকায় আমিই শতভাগ যোগ্য।বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত বগুড়া-২ আসনের শক্ত দাবিদার নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী বিউটি বেগম।

বগুড়া জেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বিউটি বেগম বলেন, ‌‌‘আমি জনগণের পাশে আছি দশ বছর। আমি জনগণের সঙ্গে আছি, আর জনগণ আমাকে চায় সেজন্য আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাই।’টাঙ্গাইল ৮ আসনটি চান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। তবে, বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানের প্রত্যাশা ভোটের হিসাব কষেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আপনি সারাজীবন অনেক ত্যাগ করেছেন, কিন্তু যখন আপনার প্রাপ্তির সময় তখন পেলেন না, সে কষ্টটা তো থাকবে। রাজনীতির কারণে সে ত্যগও আপনাকে করতে হবে এটাই রাজনীতির নিয়ম। যে নেতাকেই ঐক্যফ্রন্ট মনোনয়ন দেবে, তাকে মেনে নেয়ার মত মানসিকতা আমার আছে।’আর চারবারের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমানকেও কেরানীগঞ্জের আসন ছাড়তে হচ্ছে গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টুর জন্য।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত চারবার অামি এমপি হয়েছি। প্রথমবার ৩২ হাজার ভোটের ব্যবধানে, দ্বিতীয়বার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এবং তৃতীয়বার ৭২ হাজার ভোটের ব্যবধানে আর চতুর্থবার এমপি হয়েছি আমি ৮২ হাজার ভোটের ব্যবধানে।’সমীকরণে ভুল করে প্রার্থী মনোনীত করলে ভোটের মাঠে তার প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন দলের নেতারা।

ad

পাঠকের মতামত