232127

‘ধর্ষণ একটি সুস্বাদু খাবার’

পহেলাজ নিহালনি। কিছু দিন আগেও ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) প্রধান ছিলেন। তখন তাকে রীতিমত ‘সংস্কারি’ বলা হতো। কোনো সিনেমায় খোলামেলা দৃশ্য কিংবা সংলাপ থাকলে সেখানে কর্তন করতেন নিহালনি।তবে এবার একেবারে নিজের ভোল পাল্টে নিয়েছেন পহেলাজ নিহালনি। তার নিজের সিনেমায় সেন্সরের কাঁচি চালানোয় তিনি বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এমনকি সেন্সর বোর্ডের বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন নিহালনি।মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মতামত বিচারপতির সামনে পেশ করল সিবিএফসি কর্তৃপক্ষ। স্পষ্ট ভাষায় জানাল, ঠিক কোন কোন কারণে নিহালনি পরিচালিত সিনেমা ‘রঙ্গিলা রাজা’র ২০টি সংলাপে কাঁচি চালিয়েছেন তারা।

ভারতীয় গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে, বম্বে হাই কোর্টের বিচারপতি বিপি ধর্মাধিকারি ও বিচারপতি সারঙ্গ কোতওয়ালে ডিভিশন বেঞ্চের কাছে তাদের যুক্তি পেশ করে সিবিএফসি। পেশ করা যুক্তিতে বলা হয়েছে, ‘নারী বিদ্বেষ এবং নারীদের উপর অত্যাচার যখন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে আমাদের সমাজে, যখন প্রায় প্রত্যেকদিনই একের পর এক ধর্ষণের খবর প্রকাশ্যে আসছে, তখন নিহালনি সমাজের প্রতি তার কর্তব্য পালন করেননি। তার আরও সচেতন হওয়া উচিত। ‘রঙ্গিলা রাজা’ ছবিতে তিনি ধর্ষণের পক্ষে যুক্তি পেশ করেছেন এবং মুখরোচক খাবারের সঙ্গে নারীদের তুলনা করেছেন।’

আদালতকে সিবিএফসি আরও জানিয়েছে যে, এই ছবিতে নারী এবং শিশুদের উপর অত্যাচারের ঘটনাকে মহিমান্বিত করে দেখানো হয়েছে। নারীদের বলা হয়েছে ‘কড়ক গেভর’ (কড়া পাকের মিষ্টি) এবং ধর্ষণকে বলা হয়েছে ‘সোয়াদিষ্ট খানা’ (সুস্বাদু খাবার)। ছবির নায়ক একের পর এক নারীর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছেন এবং সেই বিষয়টাকেই ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে। নায়ককে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘রাজা, রঙ্গিলা ছিল, রঙ্গিলা আছে এবং রঙ্গিলাই থাকবে।’তবে এই কর্তনকে ব্যক্তিগত আক্রোশ বলে মনে করছেন পহেলাজ নিহালনি। তাই বিষয়টি নিয়ে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

ad

পাঠকের মতামত