230098

ফুল দিলেন, মন্তব্য করলেন না ড. কামাল

মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে এসে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। স্থানীয় সাংবাদিকরা সকাল থেকেই ড. কামালের অপেক্ষায় ছিলেন। সাংবাদিকসহ উপস্থিতিদের ধারণা ছিল, ড. কামাল জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো বক্তব্য দিবেন।

শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে ভাসানী মাজারে পুষ্পস্তপক অর্পণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল। এ সময় সাংবাদিকরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

প্রবীণ এ রাজনীতিক বলেন, ‘মাওলানা ভাসানী ছিলেন মজলুম নেতা। তিনি জনগণের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে গেছেন। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শ্রদ্ধা জানাতে আজ এখানে এসেছি। মাওলানা ভাসানী অনুপ্রেরণা হয়ে চিরদিন আমাদের মাঝে থাকবেন।’কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও বলেন, ‘আজ এ বিষয়ে (নির্বাচন) কোনো মন্তব্য নয়।’

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। নির্বাচনে এখনো লেভেলপ্লেইন সৃষ্টি হয়নি। আমরা নির্বাচন থেকে সড়তে চাইনা। আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে সাথে নিয়ে নির্বাচন করতে চাই।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুধু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, জেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম তোফা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।ভাসানীর মৃত্যু দিবসে শনিবার ভোর থেকেই সন্তোষে জনতার ঢল নামে। তার অসংখ্য মুরিদান ও ভক্তদের কণ্ঠে যুগ যুগ জিও তুমি মওলানা ভাসানী স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে মজলুম জননেতার সমাধিস্থল টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাজার প্রাঙ্গণ।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলাউদ্দিন মওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করেন।এরপর থেকেই মাজারে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মরহুমের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা শুরু হয়। এতে ফুলে ফুলে ঢেকে যায় ভাসানীর মাজার।

ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন পৃথকভাবে নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কোরআনখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, কাঙালি ভোজ, আলোচনা সভা ইত্যাদি।প্রসঙ্গত, ১৯৭৬ সালের এই দিনে (১৭ নভেম্বর) ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে মওলানা ভাসানীর জন্ম। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তার জীবনের সিংহভাগই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। সন্তোষের মাটিতেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তার কৈশোর-যৌবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি তৎকালীন বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন। লাইন-প্রথা উচ্ছেদ, জমিদারদের নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনসহ সারাজীবনই তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। তার উদ্যোগে ১৯৫৭ সালে কাগমারীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি সর্বদলীয় ওয়ার কাউন্সিলের উপদেষ্টা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তার সর্বশেষ কীর্তি ছিল ফারাক্কা লং মার্চ।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। বঙ্গবন্ধুও তাকে শ্রদ্ধা করতেন পিতার মতো।সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

ad

পাঠকের মতামত