সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ৪৬ ওভারে ২১০/৭
ছক্কা হাঁকিয়ে ফিরে গেলেন মাশরাফি
ডিপ মিডউইকেট দিয়ে কুলদীপ যাদবকে ছক্কায় উড়ানোর পর এই চায়নাম্যানকে উইকেট দিয়ে ফিরে গেলেন মাশরাফি। কুলদীপের পরপর দুই ওভারে স্টাম্পড হলেন দুই জন ব্যাটসম্যান।
বেরিয়ে এসে কুলদীপকে ছক্কা হাঁকাতে চেয়েছিলেন মাশরাফি। ব্যাটে বলে করতে পারেননি, বল গ্লাভসে জমিয়েই বেলস ফেলে দেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। সপ্তম উইকেট হারালো বাংলাদেশ।
৪৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৯৬/৭। ক্রিজে সৌম্য সরকারের সঙ্গী দলে ফেরা নাজমুল ইসলাম।
স্টাম্পড হয়ে ফিরলেন লিটন
কেদার যাবদের আগের ওভারে সৌম্য সরকারের ছক্কায় গলায় চেপে বসা ফাঁস কিছুটা আলগা হয়েছিল। কুলদীপ যাদবের প্রথম পাঁচ বল থেকে ১০ রান তুলে নিয়েছিলেন লিটন দাস। কিন্তু সেই শেষ বলে তিনি স্টাম্পড হয়ে ফিরে যান।
বাঁহাতি রিস্ট স্পিনারের গুগলি পা বাড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন লিটন। বলে ব্যাটে করতে না পারায় পেছনের পা বেরিয়ে আসে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত বেলস ফেলে দেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।
১১৭ বলে ১২ চার ও দুই ছক্কায় ১২১ রান করে ফিরে যান লিটন। ৪১ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৮৮/৬। ক্রিজে সৌম্য সরকারের সঙ্গী অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।
টিকলেন না মাহমুদউল্লাহও
ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ মুক্ত হতে গিয়ে উল্টো দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে ফিরে গেলেন মাহমুদউল্লাহ।
শতরানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর নিয়মিত উইকেট হারানো বাংলাদেশের প্রয়োজন একটি জুটির, দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের। সেখানে ছক্কার চেষ্টায় ফিরে যাচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা।
রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদবের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথ বল স্লগ করে ছক্কায় উড়াতে চেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তার লক্ষ্য পূরণ হয়নি, সীমানায় ক্যাচ মুঠোয় জমান জাসপ্রিত বুমরাহ।
১৬ বলে ৪ রান করে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ। ৩৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৫২/৫। ক্রিজে লিটন দাসের সঙ্গী ওপেনিং থেকে সাত নম্বরে নেমে আসা সৌম্য সরকার।
দাপুটে ব্যাটিংয়ে লিটনের সেঞ্চুরি
ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য অনেকবারই দেখিয়েছেন লিটন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারছিলেন না। অবশেষে দেখা গেলো তার ঝলক, পঞ্চাশ ছোঁয়া প্রথম ইনিংসকে নিয়ে গেলেন তিন অঙ্কে।
৩৩ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়া লিটন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ৮৭ বলে। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে আসে ৯টি চার ও দুটি ছক্কা।
২৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৪৫/৪। লিটন ১০০ ও মাহমুদউল্লাহ ১ রানে ব্যাট করছেন।
মিঠুনের রান আউটে বিপদে বাংলাদেশ
হঠাৎ করে যেন দিশেহারা বাংলাদেশ। দ্রুত উইকেট হারিয়ে ব্যাটসম্যানরা যেন ভুলে গেছেন ক্রিকেটের মৌলিক ব্যাপারগুলো। তার মাশুল দিয়ে রান আউট হয়ে গেলেন মোহাম্মদ মিঠুন।
যুজবেন্দ্র চেহেলকে ড্রাইভ করেছিলেন লিটন। এক্সট্রা কাভারে ঝাঁপিয়ে বল ঠেকান রবীন্দ্র জাদেজা। বল থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে মিঠুন এগিয়ে যান রান নিতে। ফিল্ডারের হাতে বল দেখে ফিরে যান লিটন। যার ফল, দুই ব্যাটসম্যানই পৌঁছে যান এক প্রান্তে। রান আউটের সহজ সুযোগ কাজে লাগায় ভারত। ৪ বলে ২ রান করে ফিরে যান মিঠুন।
২৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৩৯/৪। ক্রিজে লিটনের সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ।
মুশফিককে হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ
ভালো শুরুর পর দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ। কেদার যাদবের বলে বাজে শটে ফিরে গেলেন টুর্নামেন্টে দলের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।
অফ স্টাম্পের বাইরের বাজে বলে ডিপ মিডউইকেটে জাসপ্রিত বুমরাহর হাতে ধরা পড়েন মুশফিক। ৯ বলে ৫ রান করে ফিরে যান এই কিপার ব্যাটসম্যান।
২৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৩৮/৩। ক্রিজে লিটন দাসের সঙ্গী আগের ম্যাচে ফিফটি পাওয়া মোহাম্মদ মিঠুন।
দ্রুত ফিরলেন ইমরুল
শতরানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর দ্রুত আরেকটি উইকেট হারালো বাংলাদেশ। এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে গেছেন ইমরুল কায়েস।
লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চেহেলকে পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন ইমরুল। ব্যাটের কানা ও সামনের পায়ের ফাঁক গলে বল স্পিন করে লাগে পেছনের পায়ে। এলবডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দিলে নন স্ট্রাইকার লিটনের সঙ্গে কথা বলে রিভিউ নেন ইমরুল। কিন্তু ইম্প্যাক্ট আম্পায়ার্স কল হওয়ায় ফিরে যেতে হয় তাকে।
২৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১২৮/২। ক্রিজে লিটনের সঙ্গী আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম।
মিরাজের আউটে ভাঙল রেকর্ড জুটি
লিটন দাসের সঙ্গে রেকর্ড গড়া জুটি উপহার দিয়ে ফিরে গেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাকে ফিরিয়ে ১২০ রানের জুটি ভেঙেছেন কেদার যাদব।
অফ স্পিনারের বল জায়গা করে নিয়ে কাভার পয়েন্টের ওপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন মিরাজ। ঠিক মতো পারেননি সহজ ক্যাচ যায় ফিল্ডার অম্বাতি রাইডুর হাতে।
প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে নেমে ৫৯ বলে তিন চারে ৩২ রান করে ফিরেন মিরাজ।
২২ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১২৪/১। ক্রিজে লিটন দাসের সঙ্গী ইমরুল কায়েস।
লিটনের ভালো শুরু প্রায়ই শেষ হয় বাজে শটে। রবীন্দ্র জাদেজাকে চার হাঁকিয়ে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর হতে যাচ্ছিল তার আরেকটি মঞ্চায়ন। অফ স্টাম্পের বাইরের বল স্লগ সুইপ করে তুলে দিয়েছিলেন ক্যাচ। তবে মিডউইকেটে যুজবেন্দ্র চেহেল অনেক উঁচুতে ওঠা বল মুঠোয় নিতে না পারায় বেঁচে যান এই ওপেনার। সে সময় ৫২ রানে ব্যাট করছিলেন লিটন।
১২ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৭৪/০। লিটন ৫৫ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ১৭ রানে ব্যাট করছেন।
লিটনের প্রথম ফিফটি
প্রথম ফিফটিতে পৌঁছানোর জন্য যেন বড় কোনো মঞ্চের অপেক্ষায় ছিলেন লিটন দাস। এশিয়া কাপের ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ছুঁলেন নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি।
৩৩ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় পঞ্চাশ রানে যান লিটন। তার দারুণ ব্যাটিংয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ।
উইকেটশূন্য পাওয়ার প্লে
এশিয়া কাপের এবারের আসরে প্রথমবারের মতো পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট হারাল না বাংলাদেশ। লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজে ব্যাটে ফাইনালে ভালো শুরু পেয়ে গেছে তারা।
১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৬৫/০। লিটন ৪৭ ও মিরাজ ১৬ রানে ব্যাট করছেন।
কোনো বাজে বল ছাড়ছেন না লিটন। পাওয়ার প্লেতে তুলেছেন ঝড়। পাঁচটি চারের পাশে হাঁকিয়েছেন দুটি ছক্কা। প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে নামা মিরাজের ব্যাটিংয়ে নেই চাপের কোনো ছাপ।
লিটন-মিরাজ জুটির পঞ্চাশ
কাজে লেগে গেছে বাংলাদেশের ফাটকা। নিয়মিত ওপেনার লিটন দাসের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজের ওপেনিং জুটি গেছে জমে। দুই জনে ব্যাটে বাংলাদেশ পেয়েছে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম পঞ্চাশ রানের উদ্বোধনী জুটি।
দ্রুত রান তুলছেন লিটন। বাউন্ডারিতে বাড়াচ্ছেন রান। দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন মিরাজ। দলের আর জুটির রান পঞ্চাশ ছুঁয়েছে ৪৬ বলে।
লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চেহেলকে এক ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন লিটন। ওপেনিংয়ে নতুন সঙ্গী পেয়ে অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে খেলছেন এই তরুণ।
৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৫৮/০। লিটন ৪১ ও মিরাজ ১৫ রানে ব্যাট করছেন।
বাংলাদেশের ভালো শুরু
বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দিয়েছে উদ্বোধনী জুটি। লিটন দাস ও প্রথমেবারের মতো ওপেনিংয়ে নামা মেহেদী হাসান মিরাজের দৃঢ়তায় টুর্নামেন্টে প্রথমবারের ২০ ছাড়িয়েছে উদ্বোধনী জুটির রান।
৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩৩/০। লিটন ২২ ও মিরাজ ৯ রানে ব্যাট করছেন। এই সময়ে দুই জনের ব্যাট থেকে এসেছে ৫টি বাউন্ডারি।
এশিয়া কাপের এবারের আসরে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটিগুলো ছিল ১, ১৫, ১৫, ১৬, ৫।
ওপেনিংয়ে মিরাজ
বোলিংয়ে নিয়মিতই ইনিংস শুরু করেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। দলের প্রয়োজনে এবার ব্যাটিংয়েও ওপেন করতে হলো তাকে।
ওয়ানডেতে এর আগে কখনও ছয় নম্বরের উপরে ব্যাটিংয়ে নামেননি মিরাজ। নতুন বলে তার সামর্থ্যও পরীক্ষিত নয়। তবুও লিটন দাসের সঙ্গে নেমেছেন ইনিংস উদ্বোধন করতে।
এশিয়া কাপে পুরোপুরি ব্যর্থ বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। কোনো ম্যাচেই দলকে এনে দিতে পারেনি ভালো শুরু। বারবার জুটিতে পরিবর্তন এনেও কোনো লাভ হয়নি। ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিরাজকে ওপেনিংয়ে নামিয়ে বড় একটা জুয়াই খেলল বাংলাদেশ।