৪ মাস পূর্ণ হলো খালেদার কারাবাস
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের আজ শুক্রবার (০৮ জুন) ৪ মাস পূর্ণ হলো।
আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না জানিয়ে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতারা বলছেন, সহসাই তার মুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন না।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন। পরে তাকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১৬ সালের ২৯জুন এ কারাগারের সব বন্দিকে কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। পরিত্যক্ত ওই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে চার মাস ধরে জেল আছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।
এ চার মাসের মধ্যে গত ৭ এপ্রিল কারাকর্তৃপক্ষ চিকিৎসার জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর আর তাকে বাইরে আনা হয়নি। এমনকি জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় বকশীবাজার বিশেষ আদালতেও তাকে হাজির করা হয়নি অসুস্থতার কথা বলে।
গত চার মাসে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়েছে কারাগারে প্রচণ্ড অসুস্থ খালেদা জিয়া। তাকে তার পছন্দ অনুযায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতারা।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আগামী নির্বাচন একতরফা করতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মিথ্যা ও জাল নথি তৈরি করে সাজানো মামলায় তাকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। সরকার প্রধানের প্রতিহিংসার শিকার তিনি। গুরুতর অসুস্থ হলেও তার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। যা অমানবিক ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।
এদিকে দলের সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতারাও বলছেন, এ সরকার যতদিন ক্ষমতায় আছে, ততদিন আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়া মুক্ত হতে পারবেন না। তাকে মুক্ত করতে রাজপথে নামতে হবে।
তাদের ভাষায়, যেহেতু রাজনৈতিক কারণে তিনি জেলে আছেন। তাই তাকে রাজনৈতিকভাবেই মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও কথা বলছেন।
এদিকে কারা সূত্রে জানা গেছে, বিটিভি দেখে, পত্রিকা পড়ে ও নামাজ-রোজা করে কারাগারে সময় কাটছে খালেদা জিয়ার।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীতো কয়েকদিন আগে বলেছেন ছাড়ার জন্য তো ধরিনি। তাদের কর্মকাণ্ডেতো মনে হয় না, তিনি (খালেদা জিয়া) শিগগিরই মুক্তি পাবেন।




