তিন জেলার মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা নদীর উপর নবনির্মিত ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’র উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় এলজিইডি’র বাস্তবায়িত এ সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি।
ধরলা সেতুকে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাটের মানুষের জন্য ঈদের উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের জন্য এই সেতুটি আমার পক্ষ থেকে ঈদের উপহার হিসেবে নেবেন। এটি আপনাদের ঈদের উপহার হিসেবে দিলাম। আপনারা এই সেতু রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, দেখেশুনে রাখবেন।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে আমি গিয়েছি। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটের প্রতিটি উপজেলায় গিয়েছি। সেখানকার মানুষের সমস্যার কথা শুনেছি। সরকারে আসার পর এসব মানুষের উন্নয়নে নানা উদ্যোগও নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সেতুর ফলে এ এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার হবে। মানুষের যোগাযোগ অনেক সহজ হয়ে উঠবে। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
এসময় ছিটমহল সমস্যা সমাধানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লালমনিরহাটের প্রত্যেকটা উপজেলায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। স্বাধীনতার পরপর মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সচেষ্ট ছিলেন। পরে জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিল কিন্তু কেউ ছিটমহল সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেনি। দীর্ঘদিন পর ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর পর বাংলাদেশে অনেক সরকার এসেছিল, কিন্তু কোনও সরকার ভারতের কাছে ছিটমহল সমস্যা সমাধানের দাবি জানায়নি। কিন্তু আমরা সে সমস্যার সমাধান করেছি। পৃথিবীর ইতিহাসে এত শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল বিনিময়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ, যা বিরল।’
তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে, এমনকি নদী বা সাগরে দুর্যোগের সময়ও মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সচল থাকবে। সবাই প্রয়োজনে নিজেদের অবস্থানের কথা জানাতে পারবেন। এরফলে প্রযুক্তির প্রসার ঘটবে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে। মানুষকে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, তারা ইন্টারনেটে কাজ করে টাকা উপার্জন করছে, এটি আরও বৃদ্ধি পাবে।




