215799

নারী পুরুষ সবাই ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারে? জেনে নিন এর লক্ষন, কারন ও প্রতিকার









নিউজ ডেস্ক।। নারী পুরুষ সবাই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে নারীদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। সাধারণত বয়স চল্লিশে পৌঁছানোর পরই নারীদের ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়। একটি জরিপের প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রতি বছর সারাবিশ্বে ১০ লাখেরও বেশি নারীরা এ কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দিনে দিনে আমাদের দেশেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। দেশে বছরে প্রতি ১ লাখ নারীর মধ্যে ৮০ জনই ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। আর এই রোগে প্রতিবছর পাঁচ লাখের বেশি নারীর অকালমৃত্যু ঘটে। এ রোগ কেন হয়,এর নির্দিষ্ট কোনও কারণ এখনোও জানা য়ায়নি। তবে আগেই সাবধান হলে ব্রেস্ট ক্যানসারথেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

ব্রেস্ট ক্যানসারের লক্ষণ কি কি?

মানবদেহ অসংখ্য জীব কোষ দ্বারা গঠিত। স্তনের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠলে স্তন ক্যান্সার হয়। ব্রেস্ট ক্যানসারের প্রথম লক্ষণ হচ্ছে স্তনের বিভিন্ন অংশে ‘লাম্প’ বা দলা অনুভূত হওয়া এবং স্তনের স্বাভাবিক আকারে পরিবর্তন আসা। স্তনবৃন্ত থেকে তরল পদার্থ বা রক্ত বের হওয়া। ত্বক থেকে চামড়া উঠতে থাকে, চাপ দিয়ে টোল পড়ে বা গর্ত হয়ে যায়। এ লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। আপনার রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন টেস্ট করুন।

গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট

আপনি এই টেস্টগুলো অবশ্যই করে নিতে পারেন যদি কোনো সন্দেহ হয়। এগুলো হচ্ছে:

মেমোগ্রাম।

ব্রেস্ট ম্যগনেটিক রিজোন্যান্স ইম্যাজিং(এম.আর.আই.)।

টমোগ্রাফী স্ক্যান(সি.টি, স্ক্যান)।

বায়োপসি।

ব্রেস্ট ক্যানসারের কারণ কি?

ক. প্রায় অধিকাংশ রোগীদের ক্ষেত্রে তাদের বেপরোয়া জীবনযাপনকে কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

খ. জন্মনিয়ন্ত্রণ করা বা স্বেচ্ছায় মাতৃত্ব গ্রহণ না করা এবং শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান না করানোর কারণে নারীরা এ দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হন।

গ. অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস যেমনঃ মদ্যপান ও ধুমপান করলেও ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ঘ. এছাড়া শরীর চর্চায় অবহেলা, ওজন বৃদ্ধি, জেনেটিক্স ইত্যাদিকেও এ রোগের কারণ মনে করা হয়।

ক্যান্সার অত্যন্ত সাংঘাতিক একটি রোগ তা আমরা জানি।এ থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তবে এ রোগের ধরণ অনুযায়ী বিভিন্ন চিকিৎসা গ্রহণ করা যায় যেমন সার্জারি, রশ্মি থেরাপি, কেমো-থেরাপি, হরমোনাল থেরাপি ইত্যাদি।

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিতে রয়েছে কারা?

যে সকল মহিলা হরমোনাল থেরাপি গ্রহণ করেন তাদের তো বটেই,অধিক বয়সে গর্ভধারণ করলেও ব্রেস্ট ক্যানসার হতে পারে। জিনগত কারণে মা-বাবা থেকে সন্তানদের হতে পারে। বেশি বয়সে মেনোপোজ বা রজস্রাব বন্ধ হলে আবার অল্প বয়সে মাসিক হলেও হয়। তাছাড়া অ্যালকোহল নেন যারা তাদেরও হতে পারে। রেডিয়েশন এক্সপোজার থেকেও হতে পারে।

স্তন ক্যানসারে কি ধরণের অপারেশন প্রয়োজন?

স্তন ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য সাধারণত যে অপারেশনগুলোর করার প্রয়োজন সেগুলো হচ্ছে:

ল্যাম্পপেকটমী।

ম্যাসটেকটমী।

সেন্টিনাল নোড বায়োপসি।

অক্সিলারী লিম্ফ নোড ডিসেকশন।

আপনি কি চান আপনার স্তন সুস্থ থাকুক?

তাহলে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলুন।

১.সন্দেহেজনক কিছু দেখলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২.সন্তানকে কৌটা নয়, নিজের বুকের দুধ খাওয়ান। কেননা যেসব নারী সন্তানদের ব্রেস্টফিডিং করান তাদের ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি অনেক কম থাকে।

২. নিয়মিত শরীর চর্চা করুন বা হাঁটুন।

৩. বেশি বয়সে সন্তান নেয়া থেকে বিরত থাকুন।

৪. অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত পুষ্টিকর খাবার খান। ফুলকপি,চীনা বাদাম ও জাম্বুরা ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সহায়ক।

৫. মদ্যপান ও ধূমপান থেকে ১০০ হাত দূরে থাকুন।

তাহলে এবার থেকে নিজের যত্ন নিন আর ব্রেস্ট ক্যানসারের মতো রোগ থেকে দূরে সুস্থ থাকুন।

ad

পাঠকের মতামত