211743

‘মা, তোমাকে ভালোবাসি, আমি মারা যাচ্ছি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।

মঙ্গলবার কড়া পুলিশি প্রহরার মধ্যেও রাশিয়ার সার্বিয়া শহরের কেমেরোভোর প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়েছিল হাজারো মানুষ। বিক্ষুব্ধ মানুষগুলো একটা প্রশ্নের উত্তর চায়, কোন কারণে জিমনিয়ায়া ভিশনিয়া শপিং সেন্টারে আগুন লাগলো, যার কারণে ৪০ জনেরও বেশি শিশুসহ অসংখ্য মানুষকে প্রাণ হারাতে হলো।

তারা স্লোগান দিচ্ছিলো, ‘পদত্যাগ চাই! সত্যি বলো! দুর্নীতি!’ ইত্যাদি বলে। ইউটিউবে এক ভিডিওতে দেখা যায়, এ সময় তাদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেমেরোভোর ডেপুটি গভর্নর ভ্লাদিমির চেরনভ।

বিক্ষুব্ধ জনতাকে লক্ষ্য করে তিনি বলছিলেন, ‘আমাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, আমি নির্বাচিত নই। আমি আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, এখন পর্যন্ত ‍মৃতের সংখ্যা ৬৪।’ জবাবে তার বিরুদ্ধে আবার স্লোগান ‍শুরু করে হাজারো মানুষ।

রুশ গণমাধ্যম নভয়া গেজেতার প্রতিবেদন মতে, সরকারি ঘোষণায় মৃতের যে সংখ্যা জানানো হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে মানুষ। তাদের ধারণা, এই সংখ্যা ১৫০ থেকে ৪০০ হবে। কর্তৃপক্ষ তথ্য গোপন করছে। মৃতের সংখ্যা জানার জন্য তারা একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস খুলেছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ৮৫ জন ভুক্তভোগীর নাম পাওয়া গেছে।

ইউটিউবের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী বিলাপ করে বলছে, ‘তার শেষ শব্দ ছিলো: মা, আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমি মারা যাচ্ছি।’

ওই নারী জানান, অগ্নিকাণ্ডে তিনি তার মেয়ে, ছেলের বউ ও তিন নাতি-নাতনিকে হারিয়েছেন। তিনি দমকল কর্মী ‍ও পুলিশের কাছে সিনেমা হলটির দরজা ‍খুলে দেয়ার অনুরোধ করছিলেন। সেখানে তার পরিবার আটকা পড়েছিল। কিন্তু তারা কিছুই করেনি।

তার কথা শেষ হতেই উত্তেজিত জনগণ আবার স্লোগান দিতে শুরু করে, ‘হত্যাকারীর দল!’

রুশ গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকিট ছাড়া লোকজন ভেতরে ঢুকে পড়বে- এমন আশঙ্কায় সিনেমা চলাকালে হলটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ওই সন্ধ্যায়ই সেখানে আগুন লাগে। সে সময় মা-বাবারা তাদের শিশুদের নিয়ে সিনেমা দেখায় ব্যস্ত ছিলেন। এতে অন্তত ৪১ শিশু মারা গিয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত