মুক্তিপণ আদায়ে খালেদা জিয়াকে জেলে রাখা হয়েছে : রিজভী
ভোটারবিহীন নির্বাচনের মুক্তিপণ আদায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কাছ থেকে আবারো একতরফা নির্বাচনের দাবি আদায়ে এখনও তাকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে।’
আজ বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য খালেদা জিয়ার কাছ থেকে একতরফা ভোটের জন্য মুক্তিপণ আদায় করা। তিনি চান বেগম জিয়া যেন তার ভোটারবিহীন নির্বাচনে সমর্থন দিয়ে আবারও তাকে প্রধানমন্ত্রী থাকার সুযোগ করে দেন। কিন্তু শেখ হাসিনা মনে হয় ভুলে গেছেন খালেদা জিয়া এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না গিয়ে আপোষহীন উপাধি পেয়েছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারের রাখার পরও তার জনপ্রিয়তা কমছে না বলে প্রধানমন্ত্রীর মনে আগুন জ্বলছে। এটি শেখ হাসিনা সহ্য করতে পারছেন না। এ জন্য বেগম জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছেন তিনি। খালেদা জিয়াকে আইনি অধিকারগুলোও দেওয়া হচ্ছে না।’
খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই গতকাল সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরের এমন কথাতে বোঝা যায়, ‘ঠাকুর ঘরে কেরে, আমি কলা খাইনি’ প্রবাদের মতো। এতেই বোঝা যায় যে, চেয়ারপারসনের জামিন স্থগিতে সরকারের হস্তক্ষেপ রয়েছে।’
খালেদা জিয়ার উপর কোনো চাপ প্রয়োগ করে কোনো লাভ হবে না জানিয়ে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘জনগণ বিশ্বাস করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। খালেদা জিয়ার নামে দায়ের করা মামলা, কারাগারে পাঠানো, জামিনে বিলম্ব এবং স্থগিতও রাজনৈতিক।’
এ সময় সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে রিজভী বলেন, ‘এদেশে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসবে।’
বিএনপির প্রতি দুদকের আচরণ প্রসঙ্গেতিনি বলেন, ‘দুদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকে অথচ তাদের ব্যাপারে দুদক রাতকানা বাদুড়ের মতো আচরণ করছে। আর খালেদা জিয়া ও বিএনপির পিছনে পড়ে থাকতেই যেন দুদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখ।
সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়




