204914

কেন দিনে ৮-১২ গ্লাস পানি পান করবেন?

ডেস্ক রিপোর্ট।।

শরীর সুস্থ রাখার জন্য পানি খাওয়া খুবই জরুরি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এবং শরীর সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিন পরিমাণ মতো পানি খাওয়া প্রয়োজন। ঋতু, বয়স, ওজন ও লিঙ্গভেদে একেকজন একেক পরিমাণ পানি পান করে। তবে নারীর চেয়ে পুরুষরা পরিমাণে বেশি পানি পান করেন। অনেকে ভাবেন, শিশুদের কম পানি পান করলেও চলবে। এটি ঠিক নয়। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস বা ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা দরকার। অন্যদিকে পুরুষদের প্রায় ১২ গ্লাস পানি পান করতে হবে। এক থেকে ১০ কেজি ওজনের শিশুকে প্রতি কেজি ওজন হিসাবে ১০০ সিসি তরল পান করাতে হবে। ১১ থেকে ২০ কেজি ওজনের জন্য প্রতি কেজি ওজন হিসাবে ১০০০ সিসি ও ২০ কেজির বেশি ওজনের শিশুর জন্য প্রতি কেজি ওজন হিসাবে ১৫০০ সিসি তরল পান করাতে হবে। এ ক্ষেত্রে পানি পান করানোই ভালো।

তাঁদের মতে, পানিই সমস্ত রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো ওষুধ। পর্যাপ্ত পরিমানে পানি খেলে মাথার যন্ত্রণা, অম্বল, শরীরের ব্যথা এবং ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। আর কী কী উপকারিতা পাওয়া যায় পানি থেকে? জানা যাক-

১) ওজন কমানোর জন্য কত কী না করি আমরা। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে যে ওজন সবচেয়ে সহজে কমে যেতে পারে। যখন আমরা সঠিক পরিমাণে পানি খাই, আমাদের খাবার তত তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায়।

২) শরীরকে রোগ মুক্ত করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে পানি।

৩) পর্যাপ্ত পরিমানে পানি খেলে পেশি, হাড় সুস্থ থাকে।

৪) ওজন কমানোর পাশাপাশি আর যে বিষয়ে আমরা সবথেকে বেশি সময় দিই, তা হল ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে। কত না প্রসাধনী ব্যবহার করি। আমাদের খাদ্যাভ্যাসই আমাদের শরীরের সব কিছু নির্ধারণ করে। পর্যাপ্ত পরিমানে পানি আমাদের শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। ফলে ব্রন, অ্যাকনে প্রভৃতি যাবতীয় সমস্যা কমে গিয়ে আমাদের ত্বক আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

৫) পানি আমাদের শরীরে এনার্জির পরিমান বাড়িয়ে দেয়।

শীতকালের তুলনায় গরমকালেই মানুষ বেশি পানি পান করেন। গরমে ঘাম বেশি হয়। তখন পানিস্বল্পতাও দেখা দেয়। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন আপনি পানিস্বল্পতায় ভুগছেন?

পানিস্বল্পতা দেখা দিলে নাড়ির স্পন্দন কমে যায়। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এ ছাড়া সাধারণ কিছু লক্ষণও দেখা দেয়। পিপাসা বেড়ে যায়। জিহ্বা শুকিয়ে যায়। মাথা ঘোরে। চোখ কোটরে ঢুকে যায়। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়। চেহারায় মলিনতা দেখা দেয়। ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়।

পানিস্বল্পতা দূর করার একমাত্র সমাধান পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা। বমি বা ডায়রিয়া না হলে ওরস্যালাইন খাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সামান্য লবণ মিশিয়ে পানি পান করা যেতে পারে।

গর্ভবতী মায়ের শরীরে আরেকটি প্রাণের অস্তিত্ব থাকে। সে কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে এ সময় এক লিটার বেশি পানি পান করতে হবে। এ ছাড়া বুকের দুধ খাওয়ানোর ছয় মাসেও মায়ের বেশি পানি পান করা উচিত। বুকের দুধ তৈরির জন্য শরীরে প্রয়োজনীয় পানি থাকা দরকার।

পানি খাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। রক্তে ৯৬ শতাংশই পানি থাকে। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা পানিই পান করা উচিত। অনেকেই মনে করেন, বেশি পানি পান করলে শরীরের ওজন বেড়ে যায়। আসলে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি পান করলে শরীরের চর্বিগুলো জমাট বাঁধে। সে কারণে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি পান করা উচিত নয়।

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি খেতে হবে। এতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমে যাবে। খাওয়ার রুচি বাড়বে। ওজন কমাতে অনেকে লেবুপানি খান। লেবুপানিতে সামান্য মধুও মেশানো উচিত। এতে জীবনীশক্তি বেড়ে যায়।

খাওয়ার ন্যূনতম ১০ মিনিট পরে পানি খাওয়া উচিত। তা না হলে হজমে অসুবিধা হতে পারে।
গরমে বাইরে বের হলে সারাদিনের জন্য এক বোতল পানি নিতে ভুলবেন না। প্রয়োজনে গ্রিন টির পানীয়ও নিতে পারেন। এতে শক্তি বৃদ্ধি পায়।

এ ছাড়া রসালো, পানিযুক্ত ফলও খাওয়া উচিত। ব্যায়াম বা হাঁটার মধ্যে প্রতি ১৫ মিনিট পর আধা গ্লাস পানি খাওয়া উচিত। অবশ্যই গরমে বেশি চা বা কফি খাবেন না। ফলের শরবত খেতে পারেন।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পানের দরকার নেই। শরীর, মন ও ত্বক সুস্থ-সতেজ রাখতে হলে পানি খেতে ভুলবেন না। সূত্র: সময় টিভি, যুগান্তর

ad

পাঠকের মতামত