বেবী নাজনীন বিএনপির কে?
নিউজ ডেস্ক।।
বেবী নাজনীন কে? এমন প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই হাস্যরস করেন। অনেকে বলে থাকেন, তিনি হচ্ছেন বিএনপির ‘পারমানেন্ট বিনোদন’। বিএনপির কোনো সভা সমিতি কিংবা অনুষ্ঠানে নিয়মিত গান গেয়ে বিনোদন দেন বলে তার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। এমনকি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়েও গানও রচনা করেন তিনি।
দেশ থেকে বিদেশে রয়েছে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত। তাই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্বটা পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি বেবী নাজনীনকে। রয়েছে মানব পাচারের মত অভিযোগ, তবে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এলে দেশের বাইরে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন। কয়েক বছর আগে ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ন। রাজনৈতিক মাঠে কোমর বেঁধে নামলেন।
বলা যায়, ঝোপ বুঝে কোপ মারার মতো রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন। বিএনপির দুরবস্থায় শুধু তিনি কন্ঠই নয়, শশরীরে হাজির হলেন। লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়ার সঙ্গেও রয়েছে তাঁর নিয়মিত সাক্ষাৎ। গানের ট্যুর করার নামে সেখানে দেখা করে আসেন। বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে তা নিয়ে খবরও প্রকাশ হয়েছে। তবে তিনি আলোচনায় এসেছেন খালেদা জিয়ার জন্য মায়া কান্না করে।
২০১৫ সালের এক ঘটনার উল্লেখ করা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন। সেখানে হঠাৎ দেখা মিলল বেবীর। খাবারের পট, স্যুপ ও দই নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। কার্যালয়ের প্রবেশ পথেই নিরাপত্তা বাহিনী ভেতরে প্রবেশ না করে তাঁকে বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করে। এরপরও নাছড়বান্দা বেবী নাজনীন। ভেতরে প্রবেশের জন্য প্রায় ৩০ মিনিট ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বাক-বিতন্ডা করে। বেবী নাজনীন তাঁদের বলেন, আমি আমার মায়ের জন্য দই, স্যুপ ও খাবার নিয়ে এসেছি। আমি বিদেশে ছিলাম। মা অনেক দিন ধরে না খেয়ে আছেন। মাকে খাওয়ানোর পর আমি চলে যাবো। এখানে এসেছি খালেদা জিয়ার মেয়ে হিসেবে। আমাকে ভেতরে যেতে দিন। মা না খেয়ে কতদিন বাঁচবে। প্রায় আধাঘণ্টা পরে নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে গাড়িতে করে গুলশান থানায় নিয়ে যায়। পরে, রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয় গুলশান থানা পুলিশ। এই ঘটনার পর বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘জাসাস’র অনেকেই বিরক্ত হয়েছেন। মনির খান সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন,‘সে কাউকে না জানিয়ে সেখানে গেছেন কেন! এটা কোন ধরনের আদিখ্যেতা’
জিয়া এতিমখানার মামলার রায় ঘোষণার আগের রাতে খালেদা জিয়া বাসভবনের দিকে যান। নিচতলার সিঁড়ির কাছ থেকেই সিনিয়র নেতারা তাকে সালাম দিয়ে বিদায় দেন। খালেদা জিয়া কার্যালয় ত্যাগের সময় গাড়ির পিছু-পিছু হেঁটে গেট পর্যন্ত গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বেবী নাজনীন। এভাবে খালেদা জিয়ার কাছে ঘেঁষার চেষ্টা করলেন, তাঁর কাছে খুব একটা পাত্তা পায় না বলে জানা যায়।
ব্ল্যাক ডায়মন্ড খ্যাত কন্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ঢাকা আসেন। গানের গলা থাকলেও জীবনের মোড়টা ঘুরিয়ে দেয় জিয়াউর রহমান। তিনি ক্ষমতা থাকা অবস্থায় বেবী নাজনীনকে মেয়ে বলে সম্বোধন করলেন। বিশেষ ব্যবস্থায় বেবীর পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন। সপরিবারে রংপুর ছেড়ে ওই বছরই ঢাকায় চলে এলেন তারা।
বেবীর বাবা মনসুর সরকার একজন যন্ত্রশিল্পী। তাকে চাকরি ব্যবস্থা করে দিলেন বাংলাদেশ বেতারে। বেবীকেও বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেন। রংপুর গার্লস স্কুল থেকে বেবী নাজনীনকে ভর্তি করা হলো ঢাকার ধানমন্ডি গার্লস স্কুলে।
১৯৮৭ সালে কবি ও ব্যবসায়ী সোহেল অমিতাভের সঙ্গে প্রেম করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বেবী নাজনীন। সোহেল অমিতাভের এর আগের সংসার ভেঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বেবী। এ নিয়ে সে সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তুমুল সমলোচনার মুখে পড়েন। কিন্তু সে সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। তাদের একমাত্র ছেলে মহারাজ অমিতাভ। ডিভোর্সের পরে নানা সময়ে অনেকের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন শোনা গেছে। তবে আর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি।
নতুন খবর হলো বিএনপির পার্টি অফিসেও রাত-বিরাতে তাকে দেখা যায়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীর জন্য নিয়মিত খাবার নিয়ে যান। সেখানে গান শোনান।
উল্লেখ্য, এই দৌড়ঝাপ, মায়াকান্না, সব কিছুর মূলে রয়েছে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের একটু দৃষ্টি। যার ফলে পেতে পারেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-৪ আসনে লড়াইয়ের টিকিট।
বাংলা ইনসাইডার




