197870

রায়ের দিনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সেলফিকাণ্ড

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘিরে রাজধানীতে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সকাল থেকে বকশীবাজারের আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সীমিত সংখ্যক আইনজীবী ও সংবাদকর্মীদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে। তবে সকাল থেকে আদালত এলাকায় বিপুলসংখ্যক বিএনপিপন্থী আইনজীবী উপস্থিত হয়েছেন। তারা সময় কাটাতে একের পর এক সেলফি তুলছেন। সিনিয়র আইনজীবীদের নেতাদের সঙ্গে নিজের অবস্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে চাচ্ছেন।

তবে তাদের এই কাণ্ড দেখে অনেকেই বিরুপ মন্তব্য করেছেন। তারা নেত্রীর রায়ের দিনে এমন সেলফিকাণ্ড কতটা সমীচীন তা নিয়েও প্রশ্ন করেন।

আদালতে প্রবেশ করতে না পেরে অনেক আইনজীবীকেই পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করতে দেখা যায়। এ সময় তারা স্লোগান দেন- খালেদা জিয়ার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে; জেল-জুলুম হুলিয়া, দিতে হবে খুলিয়া; আমার নেত্রী আমার মা, বন্দি হতে দেব না।

এক পর্যায়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ স্লোগানরত বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের আলিয়া মাদ্রাসার গেট থেকে সরিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করবেন।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন– মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

মামলার ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়া জামিনে রয়েছেন। মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে কারাগার থেকে সকাল সোয়া আটটার দিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

আর তারেক রহমান (লন্ডনে), সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান পলাতক।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পরে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এরপর ২৩৬ কার্যদিবসে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। মামরায় ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২৮ দিন ধরে আসামি খালেদা জিয়া ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আর ১৬ দিন তার পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে।

সূত্র: পরিবর্তন

ad

পাঠকের মতামত