197860

‘কেউ আতঙ্কিত হবেন না’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘিরে কার্যত রাজধানী সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে নগরীতে গণপরিবহন তুলনামূলক কম চলাচল করছে। নগরীর মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি করছেন। ফলে সবার মধ্যেই এক ধরনের চাপা উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

তবে পুলিশ ও র‍্যাবের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। নগরবাসীর জান-মালের নিরাপত্তায় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করবেন।

সকালে বকশীবাজারের আদালত প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ও র‍্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রায় ঘিরে নগরীতে আমরা বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। ফলে নগরবাসীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমরাও দেখেছি, অনেকেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছেন। তবে আমরা আশ্বস্ত করতে পারি, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নগরবাসীর জান-মাল রক্ষার্থে যা করা লাগে পুলিশ সবই করবে।’

এদিকে, আদালত এলাকা পরিদর্শন শেষে র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলার রায় ঘিরে সাইবার ওয়ার্ল্ড থেকে অপপ্রচার ও নানা প্রপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে। তবে আতঙ্কের কিছু নেই। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় র‍্যাব সতর্ক রয়েছে।’

এ মামলায় খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন– মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পরে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

ad

পাঠকের মতামত