ববিতাকে নিয়ে যা বললেন নায়ক সোহেল রানা ও ফারুক
বাংলা চলচ্চিত্রে নায়ক সোহেল রানা আর ফারুক বেশ জনপ্রিয় ও দর্শক নন্দিত নাম। অনেক সুপার হিট ছবি দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তারা। তবে ইদানিং বলা যায়, চলচ্চিত্র থেকে অনেকটা দূরেই আছেন এই দুই তারকা।
বিভিন্ন সময় এফডিসি বা কোনো টিভি অনুষ্ঠানে দেখা যায় তাদের। তবে সম্প্রতি এক সাথে দুই জনকে এবার দেখা গেলো বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলার ‘সেন্স অব হিউমার’ সেলিব্রিটি শো-এ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অভিনেতা শাহরিয়ার নাদিম জয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই জয় দু’জনের কাছে নায়করাজ রাজ্জাক সম্পর্কে জানতে চান। এর জবাবে ফারুক বলেন, ‘নায়করাজ ভালো অভিনেতা ছিলেন। একটা সময় তিনি একক রাজত্ব করেছেন যখন আমরা ছিলাম না। দেশের মানুষ তাকে ভালোবাসে। জনপ্রিয়তার চূড়ায় গিয়েছিলেন তিনি।’
আর সোহেল রানা বলেন, মেলো ড্রামাটিক আর্টিস্ট ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক। নায়ক আলমগীরকে নিয়েও দুই নায়ক প্রশংসায় ভাসান। তবে অভিনেতা উজ্জ্বলকে নিয়ে ফারুক প্রশংসা করলেও সোহেল রানা বলেন, ‘নো কমেন্টস’।
অনুষ্ঠানে দুই নায়কই নিজেদের কাছের মানুষ, দূরের মানুষদের নিয়ে কথা বলেন। নিজের প্রেম নিয়েও তারা খোলামেলা কথা বলেন এ অনুষ্ঠানে।
একে-অপরকে প্রশংসাও করেছেন তারা। তবে এক পর্যায়ে ফারুক গ্রামীণ নায়ক এ বিষয় নিয়ে কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দেখা যায় দুজনের মধ্যে। ববিতাকে নিয়ে দুজনের ভালোবাসা ছিল কি-না জানতে চাইলে ফারুক বলেন, ‘অবশ্যই ভালোবাসা ছিল। ভালোবাসা না থাকলে তার সঙ্গে এত সুন্দর রসায়ন জমতো না। আর সে ভালোবার মতোই মেয়ে।’ সোহেল রানাও বলেন, ‘ভালোবাসি বললে ভয়ের কিছু নেই। যাকে ভালোবাসি তাকে ভালোবাসার কথা বলতে দ্বিধা নেই। আর যাকে ভালোবাসি না তাকে জোর করে ভালোবাসি বলার কিছু নেই।’ এ কথার সূত্র ধরে ফারুক বলেন, তিনি কবরীকেও ভালোবাসতো। তবে এ ভালোবাসা ছিল ফিল্মিক। নায়কেরা নিজেদের ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে নায়িকাদের সঙ্গে প্রেমের রিউমারও ছড়াতেন ইচ্ছে করেই।
রাজনীতিতে এই দুই নায়কই এক সময় বেশ সক্রিয় ছিলেন। উপস্থাপক জয় দুজনকেই রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন করেন। বেছে নিতে বলা হয় পছন্দের মন্ত্রণালয়। ফারুক বলেন তিনি অর্থমন্ত্রী হতে চান। আর সোহেল রানা নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে দাবি করেন।
হঠাৎ করে জয় ফারুককে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন- কোনো এক নায়িকাকে নাকি আপনি তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন? জবাবে ফারুক বলেন, ‘সিনেমার প্রয়োজনে অনেক নায়িকাকেই তুলে নিয়েছি।’ জয় বলেন বাস্তবেই এক নায়িকাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে প্রবাদ শোনা যায়। জবাবে ফারুক বলেন, ‘এগুলো রিউমার, গুজব। এতো অসভ্যতার কোনো কারণ নেই।’
দুজনেই এক সিদ্ধান্তে একমত হন যে প্রতিটি পুরুষই তার স্ত্রীকে ভয় পায়। এ বিষয়ে সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা সবাই পরিবারে শান্তি চাই। তাই স্ত্রীর কাছে ভয় পেতেই হয়।’
অনুষ্ঠানের শেষ বেলাতেও তারা দুজন কথা বলেন ববিতাকে নিয়ে। ফারুক বলেন, ‘ববিতা, আপনি নিজেকে আয়নায় দেখবেন। আপনি অপূর্ব একজন সুন্দর মানুষ।’
সোহেল রানা ববিতাকে ববি নাম সম্বোধন করে বলেন, ‘ববি, তোমার চারপাশে একটা আয়না তুমি সবসময় লাগিয়ে রেখেছো। সেই আয়নার কাঁচটা ভেঙে ফেলো। নইলে হয়তো মৃত্যু কালে তোমার সন্তান ছাড়া আর কাউকে পাবে কান্নার জন্য। আর একটা বিষয় বলবো ফারুক বলেছে তুমি অপূর্ব সুন্দরী। আমিও একমত। যদি সিনেমাতে প্রয়োজন না পড়ে তবে তোমার চোখের ভ্রু কেটো না, এমনিতেই তোমাকে ভালো লাগে।’




