গুমের অন্ধকার গল্পে ‘জোয়ার’ এলো অন্তর্জালে
বিনোদন ডেস্ক
সীমাবদ্ধতার ভেতরেও ইচ্ছা, নিষ্ঠা আর নিখাদ অনুভূতি দিয়ে যে বড় গল্প বলা যায়, তারই উদাহরণ তরুণ নির্মাতা আসাদুল্লাহিল গালিবের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘জোয়ার’। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি ৩১ আগস্ট ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে।
‘জোয়ার’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন লেখক ও সাংবাদিককে ঘিরে। লেখনীর মাধ্যমে তিনি সরকারের অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতেন। তার সেই প্রতিবাদী কণ্ঠই একসময় হয়ে ওঠে তার জন্য বিপদের কারণ। একপর্যায়ে তাকে গুম করা হয়।
পরে হত্যা করে তার মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার মধ্য দিয়ে সিনেমাটিতে উঠে এসেছে গুম হয়ে যাওয়া মানুষদের নির্মম পরিণতি এবং তাদের স্বজনদের অফুরান অপেক্ষার গল্প। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গুমের ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটকে ধারণ করেছে ‘জোয়ার’।
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বিষয়ে নির্মাতা আসাদুল্লাহিল গালিব ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘‘জোয়ার’ আমার একেবারেই শুরুর দিকের কাজ। মূলত শেখার উদ্দেশ্যেই আমরা একটি টিম গড়ে সিনেমাটি নির্মাণ করি। গল্পটির পেছনে রয়েছে ৫ আগস্টের আগের বাংলাদেশের বাস্তবতা। তখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে মানুষের ওপর জুলুম, হত্যা কিংবা নিখোঁজের ঘটনা আমাদের আশপাশেই ঘটত, কিন্তু আমরা অনেক সময় নীরব থাকতাম, কিছু বলার সুযোগও ছিল না। সেই বাস্তবতাকেই সীমিত পরিসরে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’
পরিচালকের ভাষ্যে, ‘সিনেমায় এক জেলের কাছে একটি লাশ ভেসে আসে। নানা সংকটের মধ্যেও তারা লাশটি তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভয়ের কারণে তারা পুলিশের কাছে যায় না। শেষ পর্যন্ত জোয়ারে লাশটি ভেসে গেলে তারা আবার নদীতে নেমে সেটি খুঁজতে থাকে। এই অপেক্ষার মধ্য দিয়ে গত ১৫ বছরে নিখোঁজ ও হত্যার শিকার হয়ে আর ফিরে না আসা মানুষগুলোর পরিবারের অপেক্ষার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে দূরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষের ওপর রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের বাস্তবতাও তুলে ধরতে চেয়েছি।’
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস’ দেড় হাজারের বেশি গুমের সত্যতা নিশ্চিত করে। নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর দীর্ঘদিনের যন্ত্রণাই সিনেমাটির গল্পে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।
গুম, নিখোঁজ স্বজন আর অপেক্ষার গল্প নিয়ে নির্মিত ‘জোয়ার’ ইতোমধ্যে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের বিভিন্ন আয়োজনে। সর্বশেষ ৬ষ্ঠ বগুড়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬-এ ‘সেরা জাতীয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার’ অর্জন করেছে।










