বিপিএল না হলেও ১৫০-২০০ ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছে বিসিবি: মিঠুন
ক্রীড়া ডেস্ক
বিপিএল না হওয়ায় এবছর আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন দেশের ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে নিয়মিত বিপিএল খেলে ভালো পারিশ্রমিক পাওয়া ক্রিকেটারদের জন্য ক্ষতিটা বড়। তবে সাময়িক আর্থিক সহায়তার বদলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের ১৫০ থেকে ২০০ ক্রিকেটারকে উপকৃত করার পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। এমনটাই জানিয়েছেন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিসিবির সঙ্গে খেলোয়াড়দের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর মিঠুন জানান, বিপিএলের ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে দেওয়ার মতো কোনো বিকল্প ব্যবস্থা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। তাই ভবিষ্যতে ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে।
মিঠুন বলেন, ‘প্রথমত, বিপিএল না হওয়ার বিকল্প কিছু করে খেলোয়াড়দের সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা এখন নেই এবং সেটি হবেও না। বিপিএলের পরিবর্তে অন্য কিছু হচ্ছে না। আমাদের যে খেলাগুলো রুটিন অনুযায়ী হওয়ার কথা, যেমন এনসিএল বা বিসিএল, সেগুলোর মাধ্যমে খেলোয়াড়রা আর্থিকভাবে কতটুকু উপকৃত হতে পারে, সেই দিকটি নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে।’
শুধু কোয়াবের সদস্যদের সঙ্গে নয়, জাতীয় দলের অধিনায়ক ও সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গেও আলোচনা করেই বিসিবির কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান মিঠুন। তার ভাষ্য, খেলোয়াড়দের সামনে দুটি বিকল্প ছিল-এখনই সাময়িক আর্থিক সুবিধা নেওয়া, অথবা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই একটি ব্যবস্থা তৈরি করা।
তার ভাষ্য, ‘আমাদের কাছে দুটি বিকল্প ছিল। একটি হলো বিপিএলের পরিবর্তে সাময়িকভাবে আর্থিক সহায়তা নেওয়া, আর অন্যটি হলো দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করা, যার মাধ্যমে ১৫০-২০০ ক্রিকেটার উপকৃত হবে। আমরা শুধু ৫০-৭০ জন খেলোয়াড়ের কথা চিন্তা না করে কীভাবে ১৫০-২০০ খেলোয়াড় ভবিষ্যতে উপকৃত হতে পারে এবং বিষয়টি যেন টেকসই হয়, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
গত কয়েক বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটের অনিয়মিত সূচি ও পারিশ্রমিক নিয়ে ক্রিকেটারদের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন মিঠুন। তার মতে, খেলোয়াড়দের জীবিকা যেন শুধু বিপিএল কিংবা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ওপর নির্ভরশীল না থাকে, সেটিই এখন বড় দাবি।
মিঠুন বলেন, ‘গত ৫ বছর ধরে প্রিমিয়ার লিগ ও বিপিএল খুব অনিয়মিত হয়ে গেছে। কোভিডের পর থেকে এই খেলাগুলো নিয়ে এবং পারিশ্রমিক নিয়ে আমাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। আমাদের দাবি ছিল যেন আমাদের জীবিকা শুধু বিপিএল বা প্রিমিয়ার লিগের ওপর নির্ভরশীল না থাকে। ক্রিকেট বোর্ড এমন কিছু আয়োজন করবে, যার মাধ্যমে আমাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত হবে।’
এ জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন টুর্নামেন্টের ম্যাচ ফি বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। মিঠুনের আশা, ম্যাচ ফি সম্মানজনক পর্যায়ে নেওয়া গেলে বিপিএল বা প্রিমিয়ার লিগের বাইরে থেকেও ক্রিকেটাররা সারা বছর আর্থিকভাবে স্বচ্ছল থাকতে পারবেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা কীভাবে ১৫০-২০০ খেলোয়াড়কে উপকৃত করতে পারি, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। যেমন টুর্নামেন্টগুলোর ম্যাচ ফি বাড়িয়ে একটি সম্মানজনক পর্যায়ে নেওয়া, যেন একজন খেলোয়াড় সারা বছর স্বচ্ছলভাবে চলতে পারে।’
বিসিবি খেলোয়াড়দের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলেও জানান মিঠুন। শিগগিরই বোর্ড সভায় বিষয়টি অনুমোদনের আশা করছেন তিনি। তবে বিপিএল বন্ধ হয়ে যাওয়া যে খেলোয়াড়দের জন্য বড় ক্ষতি, সেটিও স্পষ্ট করেছেন কোয়াব সভাপতি। তার মতে, এই ক্ষতি এখন আর পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে আগামী বছর থেকে বিপিএল নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
‘বিপিএলের ক্ষতি এই মুহূর্তে পূরণ করা সম্ভব নয়। সেটি আমাদের না চাইলেও পূরণ হবে না। আমরা অবশ্যই চাই এ বছরই হোক, কিন্তু যেহেতু হচ্ছে না, তাই আমরা চাইব সামনের বছর যেন অবশ্যই হয়। এটি আমাদের দাবির পাশাপাশি ক্রিকেট বোর্ডেরও দায়িত্ব, যেন এই ধরনের বড় টুর্নামেন্টগুলো কখনো বন্ধ না হয়।’ – যোগ করেন মিঠুন।








