চার ফিফটিতে তৃতীয় দিন বাংলাদেশের
খেলাধূলা ডেস্ক।। পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ব্যাট হাতে দারুণ করছে বাংলাদেশ। ওপেনার সাদমান ইসলামের ফিফটির পর অর্ধশতক পেয়েছেন মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস। চার ফিফটিতে দারুণ লড়ে তৃতীয় দিন শেষ করেছে টিম টাইগার্স।
তৃতীয় দিন শেষে ৯২ ওভারে ৫ উইকেটে ৩১৬ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ১৩২ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিন শুরু করবে তারা। ১২২ বলে ৫৫ রানে ক্রিজে আছেন মুশফিকুর রহিম। ৫৮ বলে ৫২ রানে সঙ্গ দিচ্ছেন লিটন কুমার দাস।
শুক্রবার সকালে দ্রুত দুই উইকেট হারায় টিম টাইগার্স। দিনের পঞ্চম ও ইনিংসের ১৭তম ওভারে সাজঘরে ফেরেন আগের দিন অপরাজিত থাকা জাকির হাসান। ৫৮ বল খেলে ১২ রান করেন বাঁহাতি ওপেনার, মেরেছেন একটি বাউন্ডারি। তার বিদায়ে ৩১ রানে প্রথম উইকেট হারায় লাল-সবুজের দল।
দলীয় ৫৩ রানে ফিরে যান নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৭তম ওভারের শেষ বলে খুররাম শাহজাদের ডেলিভারিতে ডিফেন্স করার চেষ্টা করেন শান্ত। বল ব্যাটের ফাঁক গলে সরাসরি স্টাম্পে আঘাত হানে, বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটার। ৪২ বল খেলে ১৬ রান করার পথে দুটি চার মারেন অধিনায়ক।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ান সাদমান ও মুমিনুল হক। রানের গতি কিছুটা বাড়িয়েছেন দুজনে। ১৪৭ রানে মুমিনুলের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মধ্যাহ্ন বিরতির পর ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। ক্যারিয়ারের ১৯তম ফিফটির পরপরই খুররাম শাহজাদের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তারকা বাঁহাতি ব্যাটার।
প্রায় আড়াই বছর পর জাতীয় দলে ফিরে দারুণ করছিলেন ওপেনার সাদমান। একপ্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরির পথে হাঁটছিলেন। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি থেকে ৭ রান দূরে আটকে গেছেন, শিকার হন পাকিস্তান পেসার মোহাম্মদ আলির।
৬৬ ওভারের শেষ বলে মোহাম্মদ আলির গুডলেন্থের ডেলিভারিতে শট খেলতে চেয়েছিলেন সাদমান। লাইন মিস করায় বল আঘাত হানে স্টাম্পে। ১৮৩ বলে ৯৩ রান করে ফিরে যান টাইগার ওপেনার। ইনিংসে ছিল ১২ চারের মার।
বড় রান করতে পারেননি সাকিব আল হাসান। চা বিরতির পর ব্যাটে আসেন। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে রানের চাকা ঘোড়াচ্ছিলেন দ্রুতই। সম্ভাবনা জাগানো ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি। ৭২.৪ ওভারে সাইমের অফস্টাম্পের বাইরে ডেলিভারিতে কাভার ড্রাইভ খেলতে চেয়েছিলেন টাইগার অলরাউন্ডার। বল-ব্যাটের সংযোগ ঘটেনি। এক্সট্রা কভার অঞ্চলে উড়ে যায় বল। শান মাসুদ বল তালুবন্ধি করেন। ২১৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাইমের প্রথম টেস্ট উইকেটও সাকিব।
পরে লিটন দাসকে নিয়ে ফলোঅন এড়ান মুশফিকুর রহিম। ৮৭তম ওভারের পঞ্চম বলে শাহিন শাহ আফ্রিদির অফস্টাম্পের ডেলিভারিতে চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন মুশফিক। ১০৪ বলে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংসে ছিল ৭টি চারের মার। টেস্টে তারকা ব্যাটারের ২৮তম ফিফটি এটি।
মুশফিকের ফিফটির পর ৮৯ ওভারে নাসিম শাহ’র উপর চড়াও হন লিটন দাস। তিন চার ও এক ছক্কায় ১৮ রান তুলে নিজের ১৭তম ফিফটি পূর্ণ করেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ৫২ বলে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও একটি ছক্কার মার। পরে দুজনে অবিচ্ছিন্ন থেকে দিন শেষ করেন।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে বুধবার টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন, বৃহস্পতিবার ৬ উইকেটে ৪৪৮ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিক দল। ডাবল সেঞ্চুরি থেকে ২৯ রান দূরে ছিলেন রিজওয়ান (১৭১*)। তার ব্যক্তিগত মাইলফলকের জন্য অপেক্ষা করেননি শান মাসুদ। সেঞ্চুরি করেছেন সৌদ শাকিলও (১৪১)। দ্বিতীয় দিনের শেষবেলায় বাংলাদেশ কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৭ রান সংগ্রহ করেছিল।




