তহন আমগো নিঃশ্বাস যহন বন্ধ হয়্যা গেছে, বললেন জুসের কারখানায় কর্মরত ফাতেমা
নিউজ ডেস্ক : কারখানায় যখন আগুন লাগে তখন কোনো নিঃশ্বাস নেয়া যাচ্ছে না। আর ধোঁয়া। কোনো কিছু দেয় না, একটা দড়িও দেয় না নামার জন্য। একটা মইও দেয় না, নামব মানুষ।
তহন আমগো নিঃশ্বাস যহন বন্ধ হয়্যা গেছে (তখন আমাদের নিঃশ্বাস যাওয়া বন্ধা হয়ে যাচ্ছিলো), তখন অনেকে লাফ দিছে। মরলে নিচে গিয়া মরবো। কারখানায় কাজ করা ফাতেমা আক্তার ওই দিনের বিয়োগান্তক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আরটিভি
রূপগঞ্জে জুসের কারখানায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাঁই অর্ধশতাধিক মানুষ। আগুনের কবল থেকে বাঁচতে বহুতল ভবন থেকে লাফ দেয় কিশোরী ফাতেমা আক্তার। সে প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত অবস্থায় বেডে শুয়ে আছেন। সেই দিনের ভয়াবহ আগুনের কথা মনে করে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন ফাতেমা আক্তার।
কান্না জড়িত কণ্ঠে ফাতেমা বলেন, আমরা তিনতলায় আমগো দুই জন মেয়ে দিছে বোতল লিক করার জন্য। আমরা বোতল লিক করতাছি, আগুন লাগছে। কোন সেকশনে জানাজানি হয় নাই। তখন আমরা বইসা আছি। পিছন দিকে তাকায়া আমার সাথেরজন দেখে আগুন লাগছে। তখন আমি বললাম যে, মরলে নিচে গিয়া মরব। ওপরে তো নিঃশ্বাস নিতে পারতেছি না।
তখন আমি লাফ দিছি, ডেনিসের ওপর পইরা অনেক ব্যাথা পাইলাম। আমার সাথে যে, হে ১০ মিনিট পর লাফ দিছে। হের সারা শইল লাল হয়া গেছে গা।
‘আমি কিচ্ছু বলতে পারি না। আমি আমার বইনের খোঁজ নিছি। তারপরে শুনি, চাইরতলায় নাকি এসি রুমের ভিতরে তালা লাগায়া রাখছে। অনেক মানুষে বলছে তালাটা খোলো। তালা খোলে নাই। মালিকে নাকি কেডা নাকি অর্ডার দিছে তালা লাগায়া রাখতে।
তহন খোঁজ নিছি, এসি রুমের ভিতরে কে কে আছে। তহন হেরা সান্ত্বনা দেয় যে, এসি রুমের ভিতরে মানুষ বাইচ্যা আছে। কিন্তু হেরা বলে নাই যে, এটি রুম কি পুরা প্লট জ্বইল্যা গেছে। হেরা কোনো ব্যবস্থা করে নাই। একটু কিছু করে নাই।




