357930

বাবার মারধরে আহত মা, ওষুধ আনতে গিয়ে হামলার শিকার ছেলের মৃত্যু

বরগুলা প্রতিনিধি।। পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী আমেনাকে মারধর করেন হারুন আকন। অসুস্থ মায়ের জন্য বাজার থেকে ওষুধ আনতে যান ছেলে মিজান আকন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলেকেও মারধর করেন বাবা। হারুনকে সহায়তা করেন তার ভাই নুর আলম আকন, ইসমাইল আকনসহ অনেকেই। এ ঘটনায় মিজানের মৃত্যু হয়েছে।

চলতি মাসের ৫ তারিখ (বুধবার) মারধরের ঘটনাটি ঘটে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মা গ্রামে। মারধরের ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন মিজান। কিন্তু দিন দিন তার অবস্থার অবনতি হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গুরুতর অবস্থায় মিজানকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তার সেখানে তার মৃত্যু হয়।

এসব তথ্য জানান পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। তিনি জানান, মিজানকে খুলনায় চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পথে ঘটনার ব্যাপারে পুলিশকে জানানো হয়। মিজানের মৃত্যুর পর তার সুরতহাল করা হয়। রিপোর্টে তার মাথার পেছনে আঘাতের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ রয়েছে।

মিজানের শ্বশুর কবির মিয়া ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মিজান আকনদের বসত বাড়ির উঠানে পারিবারিক কলহের জেরে এবং পদ্মা বাজারের জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে হারুন আকন তার স্ত্রীকে মারধর করেন। মায়ের জন্য ওষুধ নিয়ে আসার পথে মিজানকে মারধর করেন হারুন ও তার ভাই নূর আলম আকন, জাকারিয়া আকন এবং ইসমাইল মুন্সি। তখন রক্ত বমি করেন মিজান। গুরুতর অবস্থায় স্বজনরা পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। মিজানের শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার খুলনা সরকারি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় তার মৃত্যু হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পাথরঘাটা সার্কেল তোফায়েল হোসেন সরকার জানান, গতকাল রাত দশটার দিকে লাশ খুলনা থেকে পাথরঘাটা থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। লাশের সুরতহাল করা হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।

 

ad

পাঠকের মতামত