354351

আতঙ্ক ছড়াতে মিয়ানমারে নতুন কৌশল

ডেস্ক রিপোর্ট: মিয়ানমারে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ ঠেকাতে নানা কূটকৌশল করে আসছে পুলিশ। শুরু থেকেই চলছে গ্রেফতার অভিযান, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি। রাস্তায় শান্তিপ্রিয় বিক্ষোভকারীদের ওপর ছোড়া হচ্ছে রাবার বুলেট, জলকামান। এমনকি কখনো কখনো ছোড়া হচ্ছে সাউন্ড গ্রেনেড ও তাজা গুলি।

এবার বাড়ি বাড়ি ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে সেনা-পুলিশ। নিরাপত্তা বাহিনীর এই অপতৎপরতা বিক্ষোভকারীদের জন্য নতুন আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। দেশজুড়ে এসব ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে প্রায় এক মাস ধরেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ-আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ক্ষমতা পোক্ত করতে শুরু থেকেই নানা বিধি-নিষেধ ও আইন চালুর সঙ্গে সঙ্গে সহিংস দমন পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে জান্তা সরকার। চলতি সপ্তাহে তা আরও ভয়ানক রূপ নিয়েছে। এর বিরুদ্ধে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেও সফল হচ্ছে না। দ্য ইরাবতী জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের পাকড়াও করতে বাড়ি বাড়ি চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে সেনা ও দাঙ্গা পুলিশ। শুধু তাই নয়, গেট ভেঙে ঢুকে বাড়িতে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাট চালানো হচ্ছে।

খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ সর্বদক্ষিণের উপকূলীয় তানিনথারি রাজ্যের মিয়েক শহরে এমনই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার শহরটির একটি এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় সেনা ও পুলিশের একটি দল। এরপর বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর ও এর বাসিন্দাদের মারধর করে। এর মধ্যে এক গর্ভবতী নারীকেও বেদম প্রহার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তার বাড়িও লুট করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই বাড়ির এক কিশোরকে গুলি করা হয়েছে।

এই হামলার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মিয়েক শহরের কোনো এক বাসিন্দার শেয়ার করা এই ভিডিওতে ওই গর্ভবতীকেও দেখানো হয়েছে। সেখানে তিনি বলছেন, সেনা ও পুলিশের ৩০ সদস্যের একটি দল তার বাড়িতে ঢুকে পড়ে এবং আসবাব সামগ্রী ভাঙচুর করে। এ সময় তার মাথায়ও আঘাত লাগে।

তিনি আরও জানাচ্ছেন, তার ঘর থেকে প্রায় চার লাখ কিয়াট ও একটি এটিএম কার্ড লুট করে নিয়ে গেছে পুলিশ। দ্য ইরাবতী জানিয়েছে, শুধু একটা বাড়িতে নয়, মিয়েক শহরের অন্তত তিনটা ওয়ার্ডের বহু বাড়ির দরজা-জানালায় ভাঙচুর চালিয়েছে সেনা-পুলিশ। চালানো হয়েছে এলোপাতাড়ি গুলি।

 

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *