353398

ধর্মের ভাইয়ের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় সন্তানদের কাছে ধরা খেলেন প্রবাসীর স্ত্রী

নিউজ ডেস্ক।। সাভারের ধামরাইয়ে আপত্তিকর অবস্থায় মাকে পর পুরুষের সঙ্গে দেখে ফেলায় তিন সন্তানকে বঁটি দিয়ে জবাই করার চেষ্টা করে পাষণ্ড মা। সন্তানদের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এলে এ যাত্রায় বেঁচে যান ওই তিন সন্তান। প্রতিবেশীরা ওই তিন সন্তানকে চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গেলো শুক্রবার দিনগত রাতে ধামরাই উপজেলার সুয়াপুর ইউনিয়নের কুটিরচর গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী ওই তিন সন্তান ও প্রতিবেশী লোকজন ।

ভোক্তভোগী তিন সন্তান ও প্রতিবেশীরা জানায়, কুটিরচর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেন ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কাতারে যান। রেখে যান স্ত্রী সিমা আক্তার, দুই ছেলে আবির হোসেন (১২), আরী হোসেন মিতু (১০) এবং এক মেয়ে আমেনা আক্তারকে(১০)।গেল কমাস ধরে কাতার প্রবাসী আনোয়ারের স্ত্রী সীমা আক্তার মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানার বাররারচর গ্রামের মো. রাশেদুল ইসলাম নামে দুবাই ফেরত এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন।

বিষয়টি নিয়ে কানাকানি হতে থাকলে রাশেদুলকে সীমা আক্তার ধর্ম ভাই পরিচয় দিয়ে সবার কাছে পরিচয় দেন। মাঝে মধ্যেই দিনে-রাতে সীমা রাশেদুলকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি প্রতিবেশীদের দৃষ্টিগোচর হলেও তারা ভয়ে এ ব্যাপারে এতোদিন মুখ বুঝেই ছিল। শুক্রবার দিনগত রাত দুইটার দিকে সীমা আক্তারকে যুবক রাশেদুলের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে ওই তিন সন্তান। মুঠোফোনে বিষয়টি সন্তানরা তাদের বাবা আনোয়ার হোসেনকে জানালে পাষণ্ড মা ওই তিন সন্তানকে বঁটি দিয়ে জবাই করে হত্যার চেষ্টা করে।

এ সময় ওই তিন সন্তানের চিৎকারে দ্রুত আশপাশের লোকজন লাঠিসোঠা নিয়ে এগিয়ে এসে তাদেরকে রক্ষা করে। পরে স্থানীয়রা তাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।

এদিকে ঘটনার পরদিন (শনিবার ) দেশে চলে আসেন আনোয়ার হোসেন নামের ওই প্রবাসী। ছেলে-মেয়ে ও প্রতিবেশী লোকজনের কাছ থেকে ঘটনাটি জানার পর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আনোয়ার স্ত্রী সীমাকে বেদড়ক মারধর করে। পরে আহত সীমাকে ধামরাই সরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।

এ ঘটনার পর মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানার বাররারচর গ্রামের মো. রাশেদুল ইসলাম আনোয়ারের স্ত্রী সীমাকে ধামরাই হাসাপাতাল থেকে ভাগিয়ে নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল গিয়ে সীমাকে আক্তারকে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ধামরাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন আনোয়ার হোসেন।

এ ব্যাপারে ধামরাই থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে আপাতত কোনও তথ্য প্রদান করা যাবে না। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

 

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *