দেড় মাস পর অপহৃত কলেজছাত্রীকে বখাটের বাড়ি থেকে উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অপহরণের দেড় মাস পর কলেজছাত্রীকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত যুবক মুঞ্জু ওরফে মজনু মণ্ডলকেও (৩০) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মজনু গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া উম্বার কাজী পাড়ার আব্দুল লতিফ মণ্ডলের ছেলে। রবিবার পুলিশ কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও বয়স নির্ধারণে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রেফতারকৃত যুবককেও রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে (১৬) কলেজ ও প্রাইভেট পড়তে আসা-যাওয়ার সময় মঞ্জু ওরফে মজনু মণ্ডল কুপ্রস্তাবসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি কলেজছাত্রী তার পরিবারের মাধ্যমে মজনুর পরিবারকে সতর্ক করতে অবগত করে। এতে মজনু আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে কলেজছাত্রীর পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দিতে থাকে। গেলো ৪ নভেম্বর বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত মজনু মণ্ডল ও তার লোকজন পথরোধ করে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন দেখার পর কলেজছাত্রীর পরিবারকে জানালে তারা তাৎক্ষনিকভাবে মজনুর পরিবারকে অবগত করে। তাদের মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ারও অনুরোধ জানায়। তাতে কোনও কর্ণপাত না করায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
অবশেষে ঘটনার প্রায় এক মাস পর গেলো আট ডিসেম্বর কলেজ ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মজনু মণ্ডল ও ইবাদত শেখকে অভিযুক্ত করে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নং-৪) দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে পুলিশ কলেজছাত্রীকে উদ্ধারে তৎপর হয়।
গতকাল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মাছরুল আলম অভিযুক্ত মঞ্জু ওরফে মজনুর বাড়ি থেকে কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার এবং মজনুকে গ্রেপ্তার করে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, কলেজছাত্রী অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার থেকে পুলিশ তৎপর ছিলো। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে শনিবার বিকেলে কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ধর্ষণ ও বয়স নির্ধারণ সংক্রান্তে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে রোববার তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত মজনুকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে।




