351169

ইয়াছিন ভালোই আছেন কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড নিয়ে

নিউজে ডস্ক।। হৃৎপিণ্ড নেই, তাতে কি! বিদেশ থেকে ব্যাটারিচালিত কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড লাগিয়ে গত চার বছর ধরে স্বাভাবিকভাবেই বেঁচে আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইয়াছিন মিয়া।

প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ করা থেকে শুরু করে মোটরসাইকেল চালানোসহ সবই করছেন স্বাভাবিকভাবে। এ অবস্থায় চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর দেশের মানুষের অনাস্থার কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশের চিকিৎসকরা।

ইয়াছিন মিয়া জানান, তিনি সৌদি আরবে ব্যবসা করতেন। দেশে আসার পর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে হৃদরোগের চিকিৎসা নেন। সেখান থেকে হৃৎপিণ্ড বড় হয়ে গেছে বলে তাকে জানানো হয় এবং ভারতে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরে ২০১৪ সালে ভারতের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবি প্রসাদ শেটির কাছে যান ইয়াছিন। দেবি শেটি প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাইপাস সার্জারি অথবা কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড লাগানোর পরামর্শ দেন। ২০১৬ সালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ডা. দেবি শেটির তত্ত্বাবধানে ব্যাঙ্গালুরুরের নারায়না চিকিৎসালয়ের চিকিৎসকরা জটিল অপারেশনের মাধ্যমে ইয়াছিনের বুকের ভেতর ব্যাটারিচালিত কৃত্তিম হৃদপিণ্ড স্থাপন করেন।

বর্তমানে সুস্থ আছেন জানিয়ে ইয়াছিন বলেন, তিনি নিয়মিত খোঁজ না নিলেও এখনো ভারতের নারায়না চিকিৎসালয় নিয়মিত তার খোঁজখবর নিচ্ছেন।

এদিকে ইয়াছিনের কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড দেখে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করেন ইয়াসিনের স্বজন ও বন্ধুরা। এ সময় তারা নিজ দেশের চিকিৎসা পদ্ধতির সমালোচনা করেন।

ইয়াছিনের ছোট ভাই মো. লিখন জানান, বড় ভাইয়ের সঙ্গে অনেক বার নিজ দেশ ছাড়াও ভারতের ব্যাঙ্গালুরু গিয়েছি। তাদের চিকিৎসা পদ্ধতি আর বাংলাদেশের চিকিৎসা পদ্ধতি অনেকটা ভিন্ন। ভারতের চিকিৎসকদের কাছে সহজে যাওয়া যায়। সেখানে রোগীরা প্রাণ খুলে কথা বলতে পারে। জটিল রোগী হলেও ডাক্তাররা হাসিমুখে অভয় দিয়ে তাদের সাহস জোগায়।

এদিকে হৃদরোগের এ উন্নত চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আবু সাঈদ জানান, এই চিকিৎসা বাংলাদেশে করার জন্য এখানো বিশ্বাস তৈরি হয়নি। কারণ মানুষ মনে করে বাংলাদেশে এ চিকিৎসা ভালো হবে না। তবে এখন বাংলাদেশেও এই চিকিৎসা করা সম্ভব। এখন যারা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আছেন তাদের চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে বলেও জানান তিনি।

বিশ্বে অল্প যে কয়েকজন রোগী আছেন, তার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইয়াছিন একজন। জটিল এই অপারেশনের তার ব্যয় হয়েছে কোটি টাকারও বেশি। উৎস: সময়নিউজ।

ad

পাঠকের মতামত