350926

মোমেনার জীবনের গল্পটাই যেন কোনও সিনেমা-নাটকের মতো

নিউজ ডেস্ক।। একযুগ পর মোমেনা বেগম (৫২) ফিরে এলেও তার জন্য অপেক্ষা করেনি সময়। স্বামী বিয়ে করেছেন। মা-বাবা মারা গেছেন। পাঁচ সন্তানের আশ্রয় হয়েছে তাদের দুই খালার বাসায়। মোমেনার জীবনের গল্পটাই যেন কোনও সিনেমা-নাটকের মতো।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামের মৃত আজিজার রহমানের কন্যা মোমেনা বেগম। বিয়ে হয় পলাশবাড়ী উপজেলায়। সেখানে মানসিক অসুস্থার কারণে মাঝে মধ্যেই স্বামীর বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হতেন তিনি। হঠাৎ এভাবে একদিন দুই মেয়ে ও তিন সন্তান রেখে নিরুদ্দেশ হন মোমেনা।

এরপর হাঁটতে হাঁটতে দেশের সীমানা পেরিয়ে চলে যান নেপালের একটি জঙ্গলপূর্ণ এলাকায়। নির্জন এলাকা থেকে নেপালের মানবসেবা আশ্রমের কর্মীরা উদ্ধার করে তাকে আশ্রমে নিয়ে আসেন। এভাবেই কেটে যায় ১২টি বছর।

এক সময় মোমেনা স্মৃতি ফিরে পেয়ে সে আশ্রম কর্তৃপক্ষের কাছে তার জীবনের ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনা খুলে বলে। মোমেনা জানায়, বাংলাদেশে তার স্বামী-সংসার ও ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তার কথামতো আশ্রমের কয়েকজন তরুণকর্মী তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে।

গত বৃহস্পতিবার মোমেনাকে নিয়ে নেপালি তরুণরা হাজির হন পলাশবাড়ী উপজেলায় স্বামী কুদ্দুস আলীর বাড়িতে। কিন্তু সংসার থেকে মোমেনা হারিয়ে যাওয়ার দুই বছর পরেই কুদ্দস মিয়া অন্যত্র বিয়ে করে। তাই বর্তমান স্ত্রীর সম্মতি না থাকায় মোমেনাসহ বিদেশি অতিথিদের আশ্রয় না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। পরে মোমেনা বেগমকে নিয়ে আসা হয় তার বাবার বাড়িতে। সেখানে মোমেনাকে ফিরে পেয়ে সন্তান-স্বজনদের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে আনন্দাশ্রু। মাকে ফিরিয়ে দেওয়ায় সন্তান ও এলাকাবাসী কৃতজ্ঞতা জানায় নেপালি মানবসেবা আশ্রমের কর্মীদের প্রতি।

ঘোড়ামারা গ্রামের রাশেদ বলেন, মানুষ মানুয়ের জন্য, এটি আবারও প্রামাণ করলো নেপালী মানব সেবা আশ্রমের কর্মীরা। জাত-পাত ভুলে মোমেনাকে মা হারানো সন্তানদের কাছে ফিরে দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মণ জানান, মোমেনার বাবা মারা গেছে। যেহেতু সে অসহায় দুস্থ, সেহেতু তাকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

ad

পাঠকের মতামত